বৈদিক জ্যোতিষ জানুন
গাইড সংগ্রহ ঘুরে দেখুন
কোনও বিষয় খুঁজছেন? খুঁজুন বা ফিল্টার করুন
31–40 / 40 গাইড
31দিগ্বল: অবস্থান ও গ্রন্থের বিকল্প ব্যাখ্যাদিগ্বলের ক্ষেত্রে এই অংশে চার দিকের সঙ্গে জন্মকুণ্ডলীর চারটি অবস্থান যুক্ত করা হয়েছে। পরে নির্দিষ্ট রাশিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে আরেকটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানভিত্তিক মূল ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু করুন
গ্রন্থে উল্লিখিত জন্মকুণ্ডলীর অবস্থানগুলি ব্যবহার করুন। দিকের নামগুলি এই জন্মকুণ্ডলী-প্রথার অংশ।
| দিক | জন্মকুণ্ডলীর অবস্থান | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|---|
| পূর্ব | উদিত অবস্থান | বুধ, বৃহস্পতি |
| দক্ষিণ | দশম অবস্থান | সূর্য, মঙ্গল |
| পশ্চিম | অস্ত অবস্থান | শনি |
| উত্তর | চতুর্থ অবস্থান | চন্দ্র, শুক্র |
সহজভাবে মিলিয়ে দেখুন
বৃহস্পতি উদিত অবস্থানে থাকলে তা ছকে বৃহস্পতির তথ্যের সঙ্গে মেলে। শনি অস্ত অবস্থানে থাকলে তা শনির তথ্যের সঙ্গে মেলে। শুধু গ্রহের রাশি জানলেই বোঝা যায় না যে এটি ওই অবস্থানগুলির একটিতে রয়েছে। জন্মকুণ্ডলীতে আগে থেকে চিহ্নিত অবস্থানগুলি ব্যবহার করুন।
টীকার বিকল্প ব্যাখ্যাটি চিনে রাখুন
টীকা (f)-এ বলা হয়েছে, কয়েকজন ভাষ্যকার নির্দিষ্ট ত্রিকোণ রাশিগোষ্ঠী ব্যবহার করেন। এই ব্যাখ্যাকে উপরের অবস্থানভিত্তিক ছক থেকে আলাদা রাখুন।
| দিক | গোষ্ঠীর রাশি | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|---|
| পূর্ব | মেষ, সিংহ, ধনু | বুধ, বৃহস্পতি |
| দক্ষিণ | বৃষ, কন্যা, মকর | সূর্য, মঙ্গল |
| পশ্চিম | মিথুন, তুলা, কুম্ভ | শনি |
| উত্তর | কর্কট, বৃশ্চিক, মীন | চন্দ্র, শুক্র |
ব্যবহারের আগে ব্যাখ্যাটি নির্দিষ্ট করুন
মূল ব্যাখ্যায় জন্মকুণ্ডলীর অবস্থান দেখা হয়; বিকল্প ব্যাখ্যায় নির্দিষ্ট রাশিগোষ্ঠীতে পড়ছে কি না, দেখা হয়। দুটিকে মিশিয়ে ফেললে প্রয়োগ করা নিয়মটিই বদলে যাবে।
এই অংশে শ্রেণিবিভাগগুলি দেওয়া হয়েছে, কোনো ভাব-গণনার পদ্ধতি বা সংখ্যাভিত্তিক দিগ্বলের নম্বর নয়।
32কালবল: দিন, রাত ও চন্দ্রকলার শ্রেণিবিভাগএই প্রথায় সময়-সম্পর্কিত শর্তগুলির শ্রেণিবিভাগ হলো কালবল। ২১ নম্বর শ্লোকে দিন ও রাত আলাদা করা হয়েছে এবং চন্দ্রের বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের পক্ষের কথাও আলাদাভাবে বলা হয়েছে।
দিন-রাতের শ্রেণিবিভাগ পড়ুন
শ্লোক এবং টীকা (a)-এ সাতটি গ্রহকে এই গোষ্ঠীগুলিতে রাখা হয়েছে।
| সময়ের বিভাগ | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|
| রাত | চন্দ্র, মঙ্গল, শনি |
| দিন | সূর্য, বৃহস্পতি, শুক্র |
| দিন ও রাত উভয়ই | বুধ |
স্থানীয় রাত নিশ্চিত এমন জন্মের উদাহরণ নিন
ধরুন, জন্মটি স্থানীয় সূর্যাস্তের পরে এবং পরের সূর্যোদয়ের আগে হয়েছে বলে নিশ্চিত জানা আছে। নিয়মের দিন-রাত অংশে তখন রাতের গোষ্ঠী এবং উভয় সময়ে প্রযোজ্য বুধের তথ্যটি দেখবেন। শুধু এই মিল থেকেই গ্রহের শক্তির সব দিক নির্ধারিত হয় না।
চন্দ্রপক্ষের কথাটি আলাদা করে পড়ুন
একই শ্লোকে ক্ষয়মান চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষকে পাপগ্রহ শ্রেণির সঙ্গে এবং বৃদ্ধিমান চন্দ্রের শুক্লপক্ষকে শুভগ্রহ শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এগুলি প্রথাগত শ্রেণির নাম। এটি চন্দ্রপক্ষভিত্তিক একটি আলাদা শর্ত, দিন-রাতের ছকের বিকল্প নয়।
এই ছোট অংশে কী ব্যাখ্যা করা হয়নি, খেয়াল করুন
এখানে গ্রহের নিজের বছর, মাস, দিন ও ঘণ্টার কথাও আছে, কিন্তু সেগুলির গণনা ব্যাখ্যা করা হয়নি। জানা স্থানীয় সময়ের বিভাগ ও চন্দ্রপক্ষ লিখে রাখতে পারেন। তবে শুধু এই তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ কালবলের নম্বর পাওয়া যায় না।
33কর্ম ও ফল নিয়ে গীতা পড়ামন দিয়ে চেষ্টা করার সঙ্গে ফলের প্রতি আসক্তি কমানোর সম্পর্ক গীতা কীভাবে দেখায় এবং দৈনন্দিন কাজ কীভাবে ভক্তির প্রকাশ হতে পারে, জানুন।
দুটি ভাব একসঙ্গে পড়ুন
দ্বিতীয় অধ্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে পুরস্কার বা ফলকে উদ্দেশ্য না করে কাজ করতে বলেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতেও বলেন। থেমে ভাবার আগে অংশটির দুটো দিকই পড়ুন।
চেষ্টাকে ভক্তির প্রকাশ হতে দিন
আর্নল্ড এই আহ্বানকে “And live in action! Labour!” বলে অনুবাদ করেছেন—অর্থাৎ কর্মের মধ্যে বাঁচো, কাজ করো। পরের লাইনগুলি কাজের সঙ্গে ধর্মনিষ্ঠা ও স্থিরতার সম্পর্ক দেখায়। কাজের প্রতি যত্ন এখানেও জরুরি।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
চাকরির আবেদনের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলে, আবেদন তৈরিতে নিজের যত্ন ও চেষ্টাকে অপেক্ষায় থাকা সিদ্ধান্তটির থেকে আলাদা করে ভাবতে পারেন। তারপর আজ করতে পারবেন এমন একটি উপকারী পদক্ষেপ বেছে নিন।
একটি প্রশ্ন সঙ্গে রাখুন
ফল অনিশ্চিত থাকলেও আজ কোন বিষয়টি আমার যত্ন পাওয়ার যোগ্য? প্রশ্নটি মনে রাখতে পারেন বা ছোট করে উত্তর লিখতে পারেন।
যে দিনগুলিতে চেষ্টা ও অনিশ্চয়তা পাশাপাশি থাকে, এই অংশটিতে ফিরে আসতে পারেন।
34শান্তভাবে পড়ার সময় মন অন্যদিকে চলে গেলেমন অন্যদিকে গেলেই পড়া থামাতে হবে না। মনোযোগ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গীতার আহ্বান এবং জীবের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতির শিক্ষা নিয়ে ভাবুন।
ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করুন
ষষ্ঠ অধ্যায়ে “But, as often” দিয়ে শুরু হওয়া লাইনগুলি পড়ুন। কৃষ্ণ মন তার লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া এবং আত্মার পথনির্দেশে তাকে আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলেন।
ফিরে আসার আহ্বানটি লক্ষ করুন
আর্নল্ড “as often”-এর সঙ্গে “so oft” ব্যবহার করেছেন—যতবার মন সরে যায়, ততবার ফিরিয়ে আনতে হবে। শুরু থেকেই মনোযোগ স্থির থাকবে আশা না করে, বারবার ফিরে আসার বিষয়টি লক্ষ করতে পারেন।
নিজের পড়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন
সহজ একটি উদাহরণ ভাবুন: পড়ার সময় বাড়ির কোনো কাজের কথা মনে পড়ে মন সরে গেল। একটু থামতে পারেন, লাইনটি আবার খুঁজে নিতে পারেন, তারপর প্রস্তুত হলে পড়া চালিয়ে যেতে পারেন।
আধ্যাত্মিক অর্থটিও মনে রাখুন
পরের লাইনগুলিতে সব জীবের মধ্যে আত্মাকে এবং আত্মার মধ্যে সব জীবকে দেখার কথা আছে। কৃষ্ণ অন্তর্মুখী হয়ে ফিরে আসার সঙ্গে সমগ্র জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি চিনতে পারার সম্পর্ক দেখান।
নিজের গতিতে পড়ুন। প্রয়োজনে থেমে পরে আবার এই অংশে ফিরতে পারেন।
35একটি পাতা, ফুল, ফল বা জলগীতার একটি পরিচিত অংশ কীভাবে সাধারণ নিবেদনের কেন্দ্রে ভালোবাসা ও ভক্তিকে রাখে এবং সেই ভাবকে দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসে, জানুন।
সাধারণ উপহারগুলি দিয়ে শুরু করুন
নবম অধ্যায়ে কৃষ্ণ পাতা, ফুল, ফল ও জলের কথা বলেন। কিছু নিবেদন করার অর্থ কী, তা ভাবার সহজ সূচনা হতে পারে এই সাধারণ উপহারগুলি।
উপহারের পিছনের অনুভূতি দেখুন
আর্নল্ডের অনুবাদে “faith and love”—বিশ্বাস ও ভালোবাসা—এবং দাতার ভক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পড়ার সময় লক্ষ করুন, কতটা যত্ন নিয়ে উপহারটি নিবেদন করা হচ্ছে।
ভক্তিকে দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করুন
পরের লাইনগুলিতে খাওয়া, দান করা ও প্রার্থনাকে কৃষ্ণের প্রতি নিবেদনের ভাব নিয়ে করার কথা আছে। এই অংশ নিবেদনের মনোভাবকে প্রতিদিনের কাজে প্রসারিত করে।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
বাড়িতে কাউকে এক গ্লাস জল দেওয়ার সময় একটু থেমে সেই সাধারণ কাজের যত্নটুকু লক্ষ করতে পারেন। নিবেদনকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অনুভূতি কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
এই অংশের সাধারণ উপহারগুলি আন্তরিকতা নিয়ে ভাবার অনেক সুযোগ দেয়।
36ঈশোপনিষদের প্রথম দুটি মন্ত্রদৈনন্দিন জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি দেখা, ঈর্ষা কমানো এবং যত্ন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান হিসেবে ঈশোপনিষদের শুরুর মন্ত্রগুলি পড়ুন।
শুরুর দুটি মন্ত্র পড়ুন
প্রথম মন্ত্রে জগৎকে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে দেখা হয়েছে এবং অন্যের সম্পদে লোভ না করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় মন্ত্রে সৎকর্মের জীবনযাপনের দিকে মন দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরের উপস্থিতি নিয়ে একটু ভাবুন
পরমানন্দ “covered by the Lord” কথাটির ব্যাখ্যা করেছেন সর্বত্র ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করা হিসেবে। শুরুর মন্ত্র সম্পর্কে এটি তাঁর ভাষ্য, যা পাঠককে অর্থটি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে।
একটি সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে ভাবুন
দ্বিতীয় মন্ত্রে একশো বছর বাঁচতে চান এমন মানুষের কথা রয়েছে। মূল বিষয় হলো জীবনটি কীভাবে কাটানো হবে—সৎকর্মের মাধ্যমে। দীর্ঘ জীবনকে সেই প্রশ্নের প্রেক্ষাপট হিসেবে পড়ুন।
নিজের জীবনের কাছে নিয়ে আসুন
কারও নতুন কিছু কেনা দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করলে জিজ্ঞেস করতে পারেন: আজ কোন সম্পর্ক বা দায়িত্বে যত্ন দিতে চাই? প্রথম দুটি মন্ত্র নিয়ে ভাবার এটি একটি উপায়।
দুটি মন্ত্র একসঙ্গে পড়ুন, যাতে নিজের ভিতরের উপলব্ধি এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব—দুটিরই জায়গা থাকে।
37কঠোপনিষদে ওঁ কী বোঝায়যম ও নচিকেতার আলোচনায় ওঁ-কে জানুন। এই পবিত্র ধ্বনি ব্রহ্মের দিকে নির্দেশ করে এবং সাধকের চিন্তার একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
যমের উত্তর দিয়ে শুরু করুন
দ্বিতীয় অংশের XV-XVII অনুচ্ছেদে যম বেদে প্রশংসিত আধ্যাত্মিক লক্ষ্যকে Aum বলেছেন; এখানে ওঁ-এর জন্য এই বানানটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরের মন্ত্রগুলিতে একে ব্রহ্ম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় বলা হয়েছে।
এখানে ব্রহ্মের অর্থ বুঝুন
পরমানন্দ ব্রহ্ম বলতে সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক সত্তা বা পরম সত্য বুঝিয়েছেন। এই অর্থ মনে রেখে মন্ত্রগুলি পড়ুন: পবিত্র ধ্বনিটি সাধক যা জানতে চান, সেই দিকেই নির্দেশ করে।
পরিতৃপ্তির কথা প্রেক্ষাপটে বুঝুন
মন্ত্রগুলিতে আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা আছে। পরমানন্দের ভাষ্য অনুযায়ী এর অর্থ ঈশ্বরের মধ্যে পূর্ণতা খুঁজে পাওয়া। এখানে মূল বিষয় আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, কোনো নির্দিষ্ট ইচ্ছা পূরণের কৌশল নয়।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
এমন একটি শব্দের কথা ভাবুন, যা শুনলে প্রিয় কারও কথা মনে পড়ে। তারপর ভাবতে পারেন, পবিত্র কোনো শব্দ কীভাবে ভক্তকে ঈশ্বরের দিকে মন ফেরাতে সাহায্য করে। পড়ার সময় এই তুলনাটি নিয়ে ভাবতে পারেন।
এখানে ওঁ এসেছে আত্মা ও সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক সত্য নিয়ে আলোচনার মধ্যে।
38কঠোপনিষদে রথের উপমাকঠোপনিষদের রথের উপমা জানুন: শরীর হলো বাহন, মন লাগাম, আর বিবেকবুদ্ধি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পথে যাত্রাকে দিশা দেয়।
উপমার অংশগুলির সঙ্গে পরিচয়
III-IV অনুচ্ছেদে প্রতিটি অংশকে আলাদা ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাখলে কথাগুলি বুঝতে সুবিধা হয়।
| উপমার অংশ | এই অংশে তার অর্থ |
|---|---|
| রথের অধিপতি | আত্মা |
| রথ | শরীর |
| সারথি | বুদ্ধি বা বিবেক |
| লাগাম | মন |
| ঘোড়া | ইন্দ্রিয় |
| পথ | ইন্দ্রিয়ের বিষয়বস্তু |
যাত্রাকে কী দিশা দেয়, লক্ষ করুন
V-VI অনুচ্ছেদে বেয়াড়া ঘোড়ার সঙ্গে সারথির কথা মেনে চলা ঘোড়ার তুলনা করা হয়েছে। বিচারবুদ্ধি ও স্থির মনের সঙ্গে ইন্দ্রিয়কে পথ দেখানোর ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে।
সাধারণ মুহূর্তে উপমাটি ব্যবহার করুন
হাঁটার সময় দোকানের উজ্জ্বল সাজানো জানালা চোখে পড়ল। এই উপমা দিয়ে আকর্ষণটি লক্ষ করতে, একটু থামতে এবং কোথায় যাবেন ঠিক করতে পারেন। ইন্দ্রিয়ের টান ও বিচারবুদ্ধির পথনির্দেশ—দুটির ভূমিকা আলাদা।
গন্তব্য পর্যন্ত পড়ুন
IX অনুচ্ছেদে গন্তব্যকে বিষ্ণুর পরম পদ বলা হয়েছে। পরমানন্দ এখানে বিষ্ণুকে সর্বব্যাপী, অপরিবর্তনীয় এক সত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যাত্রাটি দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত ছাড়িয়ে আধ্যাত্মিক মুক্তি সম্পর্কে গ্রন্থের শিক্ষার দিকে নিয়ে যায়।
সারথি হলো বুদ্ধি, আর মন হলো লাগাম। এই পার্থক্য মনে রাখলে পুরো উপমাটি স্পষ্ট থাকে।
39চাঁদের আকার বদলায় কেনচাঁদের আলোর পরিবর্তন, মাসিক চক্র এবং তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, বুঝে নিন।
সূর্যের আলো দিয়ে শুরু করুন
চাঁদের নিজের আলো নেই। তার পৃষ্ঠ থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের আলো হিসেবে দেখা যায়। সাধারণভাবে যেকোনো মুহূর্তে সূর্য চাঁদের এক অর্ধাংশ আলোকিত করে।
দেখার কোণ কীভাবে বদলায়, লক্ষ করুন
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার সময় তার আলোকিত অর্ধাংশের বিভিন্ন অংশ আমাদের চোখে পড়ে। অমাবস্যার কাছাকাছি আলোকিত দিকটি বেশির ভাগটাই আমাদের বিপরীত দিকে থাকে। প্রথম বা শেষ পাদের চাঁদে দৃশ্যমান অংশের প্রায় অর্ধেক আলোকিত দেখা যায়। পূর্ণিমার কাছাকাছি প্রায় পুরো দৃশ্যমান অংশই আলোকিত হয়।
চক্রের দৈর্ঘ্য গুনুন
এক অমাবস্যা থেকে পরের অমাবস্যা হতে গড়ে প্রায় ২৯.৫ দিন লাগে। তাই এই চক্র ঠিক ৩০ দিনের হিসাব নয়।
নিজে এঁকে দেখুন
কয়েক দিন ব্যবধানে তিনটি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে তার আকার এঁকে রাখুন এবং তারিখ ও সময় লিখুন। দৃশ্যমান অংশের কতটা আলোকিত দেখাচ্ছে, তুলনা করুন। চান্দ্রপঞ্জিকা পড়ার পাশাপাশি এটি সহজ একটি পর্যবেক্ষণের অনুশীলন।
শুধু চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে অন্ধকার করে। সাধারণ মাসিক চন্দ্রকলার তুলনায় সেটি সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের ভিন্ন বিন্যাস।
40বক্রী গ্রহ কি নিজের কক্ষপথে উল্টো চলেনা। পৃথিবী ও গ্রহটির পরস্পরের তুলনায় গতির কারণে দূরের তারাদের পটভূমিতে গ্রহটিকে পশ্চিম দিকে সরতে দেখা যায়; এটাই আপাত বক্রগতি।
বক্রগতি কী বোঝায়
বক্রগতি এমন একটি সময়কে বোঝায়, যখন কোনো গ্রহকে পটভূমির তারাদের তুলনায় তার স্বাভাবিক গতির উল্টো দিকে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে দেখা যায়। গ্রহটি নিজের কক্ষপথে সামনের দিকেই চলতে থাকে।
মঙ্গলের উদাহরণ
পৃথিবী ও মঙ্গল দুটিই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী মঙ্গলের কাছে এসে তাকে পেরিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের দেখার দিক বদলায়। ফলে দূরের তারাদের তুলনায় মঙ্গলকে পিছিয়ে যেতে মনে হয়—যেমন ধীরগতির গাড়িকে পেরিয়ে গেলে সেটিকে পিছনে সরতে মনে হয়।
সংখ্যাগুলি পড়ুন
সহজ উদাহরণ হিসেবে ধরুন, একটি তারিখে গ্রহের ক্রান্তিবৃত্তীয় দ্রাঘিমা ১২০.৫° এবং পরের তারিখে ১২০.৩°। এই কমে যাওয়া আপাত বক্রগতি বোঝায়। সংখ্যাগুলি উদাহরণমাত্র। বাস্তব ছক তুলনা করার সময় ৩৬০°–০° সীমানাও খেয়াল করুন: ৩৫৯.৯° থেকে ০.১°-এ যাওয়া মানে শূন্য পেরিয়ে সামনের দিকে চলা, অনেকটা পিছনে লাফ দেওয়া নয়।
বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আলাদা রাখুন
খগোলবিদ্যা জানায় আকাশে কোনো গ্রহ কোথায় দেখা যায়। বক্রী সময়ের জ্যোতিষীয় অর্থ আলাদা ব্যাখ্যার বিষয়। Astro Aunty-র কুণ্ডলীতে জন্মের সময় গ্রহের গতি চিহ্নিত থাকে; এখানে সম্পূর্ণ বক্রী সময়পর্বের ক্যালেন্ডার দেওয়া হয় না।