বৈদিক জ্যোতিষ জানুন
গাইড সংগ্রহ ঘুরে দেখুন
কোনও বিষয় খুঁজছেন? খুঁজুন বা ফিল্টার করুন
21–30 / 40 গাইড
21তিথি কেন ক্যালেন্ডারের তারিখের মতো নয়তিথি বা চান্দ্রদিন সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ১২ ডিগ্রি পরিবর্তন মাপে। এটি মধ্যরাত থেকে মধ্যরাতের তারিখ মেনে চলে না।
চন্দ্র ও সূর্যের ব্যবধান বের করুন
একই মুহূর্ত ও একই রাশিচক্রের সেটিংসের জন্য সূর্য ও চন্দ্রের দ্রাঘিমা, অর্থাৎ রাশিচক্রে তাদের অবস্থান নিন। চন্দ্রের মান থেকে সূর্যের মান বাদ দিন। ফল ঋণাত্মক হলে ৩৬০° যোগ করুন। পুরো ৩৬০° আবার ০°-তে ফিরে আসে।
১২ ডিগ্রির অংশ গুনুন
প্রতিটি তিথি ১২° বা ৭২০ কৌণিক মিনিট জুড়ে থাকে। কৌণিক মিনিট দিয়ে কোণ মাপা হয়, ঘড়ির সময় নয়। এমন ত্রিশটি অংশে একটি ৩৬০° চক্র পূর্ণ হয়। ব্যবধানকে ১২ দিয়ে ভাগ করে কতটি অংশ সম্পূর্ণ হয়েছে দেখুন; তার পরেরটিই বর্তমান তিথি।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
চন্দ্র ৬৮° এবং সূর্য ৪২°-এ থাকলে ব্যবধান ২৬°। ১২°-এর দুটি অংশ পূর্ণ হয়েছে এবং আরও ২° বাকি রয়েছে, তাই এটি তৃতীয় তিথি। এটি ঠিক ২৪° থেকে শুরু হয়ে ৩৬°-এর আগে শেষ হয়। ৩৬°-এ চতুর্থ তিথি শুরু হয়।
শেষ হওয়ার সময় পড়ুন
একটি ক্যালেন্ডারের তারিখের মধ্যেই তিথি বদলাতে পারে। পঞ্চাঙ্গ পড়ার সময় তালিকাভুক্ত তিথির শেষ হওয়ার সময় এবং ব্যবহৃত সময় অঞ্চল দেখুন। তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই নোটও পড়ুন—বিশেষত কোনো তথ্য মধ্যরাত পেরিয়ে চললে।
22করণ কীকরণ হলো অর্ধেক তিথি: সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ৬ ডিগ্রির একটি অংশ।
অর্ধতিথি গুনুন
চন্দ্রের দ্রাঘিমা থেকে সূর্যের দ্রাঘিমা বাদ দিন এবং ফলটি ০° থেকে ৩৬০°-এর কম রাখুন; প্রয়োজন হলে ৩৬০° যোগ করুন। তারপর ৬° দিয়ে ভাগ করুন। ফলে ৩০ তিথির একটি চক্রে ৬০টি অর্ধতিথির অংশ থাকে। ঠিক ৩৬০°-এ চক্রটি আবার শুরু হয়।
একই নাম বারবার আসার নিয়ম বুঝুন
৬০টি অংশের জন্য এগারোটি নাম ব্যবহৃত হয়। আলোকিত অর্ধ বা শুক্লপক্ষের শুরু থেকে গুনুন। প্রথম অংশে একটি স্থির করণ থাকে। ২–৫৭ নম্বর অংশে বব দিয়ে শুরু করে সাতটি নাম আটবার ঘুরে আসে। ৫৮–৬০ নম্বর অংশে বাকি তিনটি স্থির করণ থাকে। তাই চারটি স্থির অবস্থান চক্রের শেষ ও শুরুকে ঘিরে থাকে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
২৬° ব্যবধানে ৬°-এর চারটি পূর্ণ অংশ এবং আরও ২° থাকে, তাই এটি পঞ্চম অংশে পড়ে। এটি তৃতীয় তিথির প্রথমার্ধ। সম্পূর্ণ তিথিটি ২৪° থেকে ৩৬°-এর আগে পর্যন্ত; তার প্রথমার্ধ ৩০°-এর আগে শেষ হয় এবং ৩০° থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়।
নামের তালিকা মিলিয়ে দেখুন
পঞ্চম অংশটি পুনরাবৃত্ত করণগুলির চতুর্থ, কারণ বব শুরু হয় দ্বিতীয় অংশে। আপনার পঞ্চাঙ্গের করণের তালিকায় তার নাম দেখুন। নিয়ম যাচাই করার সময় ১ ও ৫৮–৬০ নম্বরকে স্থির এবং ২–৫৭ নম্বরকে পুনরাবৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করুন।
23পঞ্চাঙ্গে যোগ বলতে কী বোঝায়পঞ্জিকার যোগ সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান যোগ করে পাওয়া যায়। এখানে যোগ হলো পঞ্চাঙ্গের একটি মাপ; ব্যায়াম বা জন্মকুণ্ডলীতে গ্রহের বিশেষ সমন্বয় নয়।
দুটি অবস্থান যোগ করুন
একই ছক থেকে একই মুহূর্তের সূর্য ও চন্দ্রের নিরয়ণ দ্রাঘিমা নিন এবং যোগ করুন। মোট ৩৬০° বা বেশি হলে ৩৬০° বাদ দিন; ঠিক ৩৬০° হলে তা ০° হবে। দুটি অবস্থানেই একই রাশিচক্রের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
২৭টি অংশে ভাগ করুন
প্রতিটি অংশ ১৩°২০′ বা ৮০০ কৌণিক মিনিটের। এই মিনিট কোণ মাপে, ঘড়ির সময় নয়। মোট মানকে কৌণিক মিনিটে বদলে নিলে ১৩°২০′-কে দশমিকে আনুমানিক না করেই ৮০০ দিয়ে ভাগ করা যায়। পুরো বৃত্তে এমন ২৭টি অংশ থাকে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
সূর্য ১০০° এবং চন্দ্র ১৫০°-এ হলে যোগফল ২৫০°, অর্থাৎ ১৫,০০০′। ৮০০ দিয়ে ভাগ করলে ১৮টি পূর্ণ অংশ ও ৬০০′ অবশিষ্ট থাকে। তাই বর্তমান যোগের নম্বর ১৯। ঠিক ২৪০° থেকে এই অংশটিই শুরু হয়; ঠিক ৩৬০°-এ আবার প্রথম যোগ শুরু হয়।
পঞ্চাঙ্গের তথ্য ব্যবহার করুন
পঞ্চাঙ্গের যোগের তালিকা থেকে অংশটির নাম দেখুন। তারপর তার শেষ হওয়ার সময় ও সময় অঞ্চল যাচাই করুন। অবশিষ্ট কৌণিক মান জানায় অংশটির কতটা পেরিয়েছে; এটি ঘড়িতে বাকি থাকা মিনিটের সংখ্যা নয়।
24সৌর ও চান্দ্রমাসের পার্থক্যসৌরমাস একটি রাশিতে সূর্যের চলন অনুসরণ করে; চান্দ্রমাসে ৩০টি তিথি গোনা হয়। তাই দুটির শুরু একসঙ্গে হওয়া জরুরি নয়।
সৌরমাস: একটি রাশি
এই প্রথাগত মাপে সূর্য একটি ৩০ ডিগ্রির রাশিতে প্রবেশ করার পর থেকে পরের রাশিতে প্রবেশ করা পর্যন্ত একটি সৌরমাস। সূর্য কোনো রাশির ১৫°-এ থাকলে পরের রাশিতে প্রবেশের আগে আরও ১৫° বাকি থাকে। এটি কৌণিক দূরত্ব, দিনের সংখ্যা নয়।
চান্দ্রমাস: ত্রিশটি তিথি
একটি চান্দ্রমাসে ৩০টি তিথি থাকে। প্রতিটি তিথি সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ১২ ডিগ্রি বৃদ্ধি মাপে। এখানে মধ্যরাতের সীমানা নয়, অবস্থানের পরিবর্তন মাপা হচ্ছে। তাই ৩০টি তিথি মানে ৩০টি সাধারণ ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়।
চান্দ্রমাসের নাম চিনুন
কার্তিকের মতো নামের সঙ্গে নক্ষত্রের প্রথাগত সম্পর্ক রয়েছে। কার্তিক কৃত্তিকা নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত। শুধু মাসের নাম থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে চন্দ্র ঠিক কোন নক্ষত্রে থাকবে, তা জানা যায় না; তার জন্য পঞ্জিকার আলাদা নক্ষত্রের তথ্য দেখুন।
শিরোনামগুলি একসঙ্গে পড়ুন
মেষের সঙ্গে যুক্ত কোনো সৌরমাসের শিরোনামের সঙ্গে কার্তিকের মতো চান্দ্রমাসের শিরোনাম তুলনা করুন। প্রতিটি কী গুনছে, ভাবুন। তারপর নিচের সংখ্যাগুলি ক্যালেন্ডারের তারিখ নাকি তিথি, দেখুন এবং মাস কখন শুরু হয়, সেই পদ্ধতির উল্লেখ থাকলে পড়ুন।
25প্রথাগত দিন সূর্যোদয় থেকে কেন শুরু হতে পারেসূর্যোদয়ভিত্তিক বা সাবন দিন এক সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত চলে। পরিচিত ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলায় মধ্যরাতে।
শুরুর স্থান ঠিক করুন
এই প্রথাগত গণনায় সূর্যোদয়ে নতুন দিন শুরু হয় এবং পরের সূর্যোদয়ে সেই দিন শেষ হয়। এটি দিনের সীমানা ঠিক করার একটি পদ্ধতি। আপনার ফোন বা সাধারণ ক্যালেন্ডারে দেখানো তারিখ এতে বদলায় না।
মধ্যরাতের সঙ্গে তুলনা করুন
মধ্যরাত থেকে মধ্যরাতের তারিখ এবং সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয়ের সময়পর্ব আংশিক মেলে, পুরোপুরি নয়। মধ্যরাতের পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা আগের সকালবেলার সূর্যোদয়ে শুরু হওয়া সময়পর্বের মধ্যেই পড়তে পারে।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেখুন
ধরুন মঙ্গলবার সকাল ৬:০০টায় এবং বুধবার সকাল ৬:০০টায় সূর্যোদয় হচ্ছে। বুধবার রাত ৩:০০টায় সাধারণ ক্যালেন্ডারে বুধবার হয়ে গেছে, কিন্তু মঙ্গলবারের সূর্যোদয়ে শুরু হওয়া সময়পর্ব তখনও চলছে। বুধবার সকাল ঠিক ৬:০০টার সূর্যোদয়ে পরের পর্ব শুরু হবে। সময়গুলি উদাহরণমাত্র; বাস্তবে তারিখ ও স্থান অনুযায়ী সূর্যোদয় বদলায়।
পঞ্জিকার স্থান যাচাই করুন
কোনো তথ্যের অর্থ বোঝার আগে দেখুন, পঞ্জিকাটি দিন কীভাবে নির্ধারণ করেছে এবং সূর্যোদয়ের সময় কোন স্থানের জন্য দেওয়া। সময় অঞ্চলও যাচাই করুন। তথ্য তুলনা করার সময় ছাপানো সাধারণ তারিখ, সূর্যোদয়ের সীমানা এবং ঘটনার সময় আলাদা করে রাখুন।
26সংক্রান্তি বলতে কী বোঝায়সূর্য যে মুহূর্তে পরের রাশিতে প্রবেশ করে, সেটিই সংক্রান্তি। এই প্রথাগত গণনায় ওই সীমানা থেকে আরেকটি সৌরমাস শুরু হয়।
রাশিতে প্রবেশগুলি গুনুন
রাশিচক্রে ৩০° করে বারোটি রাশি আছে। পুরো একবার ঘুরতে সূর্য বারোবার নতুন রাশিতে প্রবেশ করে। কোনো প্রবেশ নির্ধারণের আগে দেখুন, পঞ্জিকাটি কোন রাশিচক্রের পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
সূর্য মীনের ২৯°৫৯′-এ থাকলে মেষে পৌঁছাতে এক কৌণিক মিনিট বাকি। মেষের ০°-এ মেষ সংক্রান্তি শুরু হয়। মোট দ্রাঘিমা ৩৫৯°৫৯′ থেকে ৩৬০°-এ যায়, যা আবার ০° হয়। ঠিক সীমানাটি মেষের মধ্যে পড়ে। এখানে কৌণিক মিনিট কোণ মাপছে, ঘড়ির এক মিনিট নয়।
নিরয়ণ না সায়ন, যাচাই করুন
নিরয়ণ পঞ্চাঙ্গে নিরয়ণ রাশির সীমানা ব্যবহার করা হয়। ডিসেম্বরের অয়নান্ত সায়ন দ্রাঘিমার ২৭০°-এ নির্ধারিত। বর্তমানে এই দুই পদ্ধতির শুরুর স্থান আলাদা। তাই আধুনিক মকর সংক্রান্তি এবং ডিসেম্বরের অয়নান্তকে একই ক্যালেন্ডারের তারিখ ধরা যায় না।
প্রকাশিত সময় দেখুন
পরের রাশিতে প্রবেশের আগে কত কোণ বাকি, তা জানতে বর্তমান রাশিতে সূর্যের ডিগ্রি ৩০° থেকে বাদ দিন। ঘড়ির সময় জানতে সেই বছরের পঞ্জিকা দেখুন এবং সময় অঞ্চল ও রাশিচক্রের পদ্ধতি যাচাই করুন। প্রতি বছর একই তারিখ ধরে নেওয়ার বদলে প্রকাশিত প্রবেশের সময় ব্যবহার করুন।
27বৃহৎ জাতকে গ্রহের দৃষ্টি কীভাবে গোনা হয়টীকায় কোনো গ্রহের নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে মাপা কোণ দিয়ে দৃষ্টি বোঝানো হয়েছে। এই সংস্করণের শুরুর স্থান, সাধারণ দৃষ্টির ভগ্নাংশ এবং বিশেষ পূর্ণদৃষ্টি জানুন।
গ্রহের ডিগ্রি থেকে গুনুন
গ্রহের নির্দিষ্ট দ্রাঘিমাকে শুরুর বিন্দু A ধরুন। ওই বিন্দুটিকে প্রথম অবস্থান ধরে রাশিচক্রের ক্রমে ৩০° করে এগোন। তৃতীয় অবস্থান A থেকে ৬০° দূরে; সপ্তম অবস্থান A থেকে ১৮০° দূরে। এই গণনা গ্রহ থেকে শুরু হয়, লগ্ন থেকে নয়।
সাধারণ দৃষ্টির অবস্থান পড়ুন
শ্লোকটিতে সাতটি কৌণিক অবস্থানের জন্য দৃষ্টির ভগ্নাংশ দেওয়া আছে। এখানে ‘দৃষ্টি’ ওই কোণগুলির জন্য গ্রন্থে ব্যবহৃত শ্রেণিবিভাগ।
| গ্রহ থেকে অবস্থান | A থেকে কোণ | দৃষ্টির অংশ |
|---|---|---|
| তৃতীয় | 60° | ¼ |
| চতুর্থ | 90° | ¾ |
| পঞ্চম | 120° | ½ |
| সপ্তম | 180° | পূর্ণ |
| অষ্টম | 210° | ¾ |
| নবম | 240° | ½ |
| দশম | 270° | ¼ |
বিশেষ পূর্ণদৃষ্টি প্রয়োগ করুন
নিচের অবস্থানগুলিতে সাধারণ ভগ্নাংশের বদলে পূর্ণদৃষ্টি ধরা হয়। এই গ্রহগুলির প্রত্যেকটির সপ্তম দৃষ্টিও পূর্ণ থাকে।
| গ্রহ | গ্রহ থেকে অবস্থান | A থেকে কোণ |
|---|---|---|
| শনি | তৃতীয় ও দশম | 60° ও 270° |
| বৃহস্পতি | পঞ্চম ও নবম | 120° ও 240° |
| মঙ্গল | চতুর্থ ও অষ্টম | 90° ও 210° |
একটি উদাহরণ ও তার বিস্তার দেখুন
শনি মেষের ১০°-এ থাকলে পূর্ণদৃষ্টির কেন্দ্রগুলি হলো মিথুনের ১০°, তুলার ১০° এবং মকরের ১০°। টীকায় প্রতিটি কেন্দ্রের দুই দিকে ১৫° করে বিস্তার ধরা হয়েছে। তুলার ১০°-এর ক্ষেত্রে তা কন্যার ২৫° থেকে তুলার ২৫° পর্যন্ত। বিশেষ দৃষ্টির ক্ষেত্রেও টীকায় একই বিস্তার প্রযোজ্য বলা হয়েছে।
এটি এই সংস্করণের টীকায় বর্ণিত কৌণিক পদ্ধতি। ভগ্নাংশ ও বিস্তার জন্মকুণ্ডলীর প্রথাগত সংজ্ঞা, কোনো বাস্তব ভৌত প্রভাবের মাপ নয়।
28গ্রহের নৈসর্গিক সম্পর্ক: সঠিক দিক থেকে ছকটি পড়ুনবৃহৎ জাতকে সত্যাচার্যের নামে উল্লিখিত একটি নির্দিষ্ট ছক গ্রহণ করা হয়েছে। মিত্র, সম ও শত্রু হলো একটি গ্রহের তুলনায় অন্য গ্রহের শ্রেণিবিভাগ বোঝানোর পারিভাষিক নাম।
যে গ্রহকে ভিত্তি করছেন, তার সারি পড়ুন
প্রথম কলাম থেকে ভিত্তি-গ্রহটি বেছে নিন, তারপর সেই সারিতে দ্বিতীয় গ্রহটি খুঁজুন। প্রতিটি সারিতে অন্য ছয়টি গ্রহের নাম আছে; ভিত্তি-গ্রহটি নিজে বাদ থাকে।
| ভিত্তি-গ্রহ | মিত্র | সম | শত্রু |
|---|---|---|---|
| সূর্য | চন্দ্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি | বুধ | শুক্র, শনি |
| চন্দ্র | সূর্য, বুধ | মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি | কেউ নেই |
| মঙ্গল | সূর্য, চন্দ্র, বৃহস্পতি | শুক্র, শনি | বুধ |
| বুধ | সূর্য, শুক্র | মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি | চন্দ্র |
| বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল | শনি | বুধ, শুক্র |
| শুক্র | বুধ, শনি | মঙ্গল, বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র |
| শনি | শুক্র, বুধ | বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল |
উল্টো দিকটি আলাদা করে যাচাই করুন
চন্দ্রের সারিতে বুধ মিত্র। বুধের সারিতে চন্দ্র শত্রু। দুটি তথ্য আলাদা, কারণ প্রতিবার ভিত্তি-গ্রহ আলাদা। তাই ছকটি দুই দিক থেকে একই হবে ধরে নেবেন না।
এই ছককে গ্রহের অবস্থান থেকে আলাদা রাখুন
উল্লিখিত পদ্ধতিতে নৈসর্গিক সম্পর্কের এই ছক নির্দিষ্ট থাকে। সাময়িক সম্পর্ক আলাদা হিসাব; তা জন্মকুণ্ডলীতে গ্রহগুলির পরস্পরের তুলনায় অবস্থানের উপর নির্ভর করে।
১৫ নম্বর শ্লোকে আরেকটি তালিকা রয়েছে। এই লেখায় শুধু ১৬–১৭ নম্বর শ্লোকে লেখকের গৃহীত সত্যাচার্যের ছক ব্যবহার করা হয়েছে।
29গ্রহের সাময়িক মৈত্রী: ভিত্তি-গ্রহ থেকে গুনুনএকটি গ্রহের তুলনায় অন্যটি কোথায় রয়েছে, তার উপর সাময়িক সম্পর্ক নির্ভর করে। নৈসর্গিক ছকের বিপরীতে, আপেক্ষিক অবস্থান বদলালে এই শ্রেণিবিভাগও বদলাতে পারে।
শুরুর অবস্থান বেছে নিন
একটি গ্রহকে ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়ে তার অবস্থানকে প্রথম ধরুন। পরের অবস্থান দ্বিতীয়, এভাবে বারো পর্যন্ত গুনুন। সেই গ্রহ থেকে গুনবেন; স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ্ন থেকে নয়। নিচের উদাহরণে নম্বরযুক্ত অবস্থান ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট ভাব-গণনার পদ্ধতি ধরে নিতে না হয়।
ছয়টি মিত্র অবস্থান ব্যবহার করুন
শ্লোকের মূল নিয়ম অনুযায়ী, ভিত্তি-গ্রহ থেকে ২, ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর অবস্থানে থাকা অন্য গ্রহগুলি তার সাময়িক মিত্র। অন্য অবস্থানগুলিকে সাময়িক শত্রু বলা হয়।
নম্বর দিয়ে একটি উদাহরণ দেখুন
বৃহস্পতিকে ভিত্তি ধরুন। শুক্র বৃহস্পতি থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলে শুক্র বৃহস্পতির সাময়িক মিত্র। শনি সপ্তম অবস্থানে থাকলে শনি বৃহস্পতির সাময়িক শত্রু। দুটি ক্ষেত্রেই বৃহস্পতি থেকে শুরু করে আলাদা তুলনা করা হচ্ছে।
দুটি পরিচয় এক করে ফেলবেন না
নৈসর্গিক ছকে বৃহস্পতির সারিতে শুক্র শত্রু। দ্বিতীয় অবস্থানের উদাহরণে শুক্র সাময়িক মিত্র। দুটিই লেখা যায়: একটি এসেছে নির্দিষ্ট ছক থেকে, অন্যটি আপেক্ষিক অবস্থান থেকে।
১৮ নম্বর শ্লোকে কয়েকজন আচার্যের মতে উচ্চরাশি-ভিত্তিক মৈত্রীর আরেকটি নিয়মও রয়েছে। সেই অতিরিক্ত নিয়মটি এখানে বোঝানো ছয় অবস্থানের নিয়মের অংশ নয়।
30স্থানবল: পাঁচটি আলাদা পরিচয় বুঝুনএই অংশে পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে গ্রহের অবস্থান শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে; এটিই স্থানবল। স্বরাশি ও স্বনবাংশ তালিকার দুটি আলাদা বিষয়।
পাঁচটি শব্দ চিনে নিন
১৯ নম্বর শ্লোকে এই শর্তগুলির নাম রয়েছে, তবে কোনো সংখ্যাভিত্তিক নম্বর দেওয়া নেই।
| পরিভাষা | কী বোঝায় |
|---|---|
| উচ্চরাশি | গ্রহটির জন্য নির্ধারিত উচ্চরাশি। |
| মিত্ররাশি | ব্যবহৃত সম্পর্কের নিয়ম অনুযায়ী ওই গ্রহের মিত্র হিসেবে গণ্য রাশি। |
| মূলত্রিকোণ | গ্রন্থে আলাদা নামে উল্লিখিত রাশির একটি শ্রেণি। |
| স্বনবাংশ | গ্রহটির অধীন কোনো রাশির নামে নবাংশ। |
| স্বরাশি বা স্বক্ষেত্র | যে রাশির অধিপতি ওই গ্রহ। |
‘নিজের’ শব্দের দুটি ব্যবহার আলাদা করুন
স্বরাশি গ্রহটির মূল রাশিতে অবস্থান বোঝায়। স্বনবাংশ বোঝায় হিসাব থেকে পাওয়া নবাংশে অবস্থান। প্রথম অধ্যায়ের টীকায় একই নামের রাশি ও নবাংশের অধিপতি একই বলা হয়েছে। তাই সিংহ নামের নবাংশ সূর্যের। শুধু কোনো নবাংশে অবস্থান করলেই সেটি গ্রহটির স্বনবাংশ হয় না।
পরিচয়গুলি কীভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে, দেখুন
দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকায় মেষকে সূর্যের উচ্চরাশি এবং সিংহকে তার মূলত্রিকোণ বলা হয়েছে। সূর্যকে সিংহের অধিপতিও বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, গ্রন্থে একই রাশির জন্য দুটোই বলা হলেও মূলত্রিকোণ ও স্বরাশি আলাদা পরিচয়।
প্রতিটি পরিচয়ের ভিত্তি লিখে রাখুন
জন্মকুণ্ডলীর কোনো তথ্যের জন্য রাশি, তার অধিপতি এবং নবাংশ আলাদা করে লিখুন। অতিরিক্ত কোনো পরিচয় কোন সূত্র বা সম্পর্কের নিয়ম থেকে এসেছে, তা চিহ্নিত করুন। আপেক্ষিক মানের জন্য টীকায় অন্য অংশের উল্লেখ আছে; শুধু পাঁচটি নাম দেখে নম্বর যোগ করা বা শর্তগুলির ক্রম নির্ধারণ করা যায় না।
এই লেখায় উল্লিখিত অংশগুলির শ্রেণিবিভাগ বোঝানো হয়েছে। এখানে গ্রহের সম্পূর্ণ শক্তির নম্বর গণনা করা হয় না।