বৈদিক জ্যোতিষ জানুন
একটি প্রশ্ন বেছে নিন। এখানেই খুলুন। যা কাজে লাগে, তা নিন।
গাইড সংগ্রহ ঘুরে দেখুন
কোনও বিষয় খুঁজছেন? খুঁজুন বা ফিল্টার করুন
40 গাইড · পড়তে একটি কার্ড বেছে নিন
01প্রথম পরামর্শের জন্য প্রস্তুতিজ্যোতিষ নিয়ে প্রথমবার কথা বলবেন? কী সঙ্গে রাখবেন এবং কী প্রশ্ন করতে পারেন, জেনে নিন।
দুই বা তিনটি প্রশ্ন বেছে নিন
এই মুহূর্তে আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই বা তিনটি প্রশ্ন লিখে রাখুন। পুরো জন্মকুণ্ডলী পড়ে দেওয়ার সাধারণ অনুরোধের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন—যেমন দুটি চাকরির প্রস্তাবের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন—বেশি কাজে লাগার মতো আলোচনা তৈরি করে।
জন্মের তথ্য জোগাড় করুন
জন্মের নথিভুক্ত তারিখ, সময় ও স্থান সঙ্গে রাখুন। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে তা বলুন এবং সেই তথ্য ছাড়া জন্মকুণ্ডলীর কোন দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব, জিজ্ঞেস করুন।
কোন সিদ্ধান্ত নিতে চান, বুঝে নিন
প্রতিটি প্রশ্নের পিছনে কী সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা ভেবে দেখুন। আপনি বাস্তবে যে বিকল্পগুলি বেছে নিতে পারেন, সেগুলি নিয়ে কথা বললেই পরামর্শ বেশি ফলপ্রসূ হয়। তাই সামনে থাকা বিকল্পগুলি এবং সেগুলির সময়সীমা লিখে রাখুন।
বৈদিক জ্যোতিষ নিজের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার একটি প্রথাগত পদ্ধতি দেয়; এটি যাচাইকৃত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহায়ক হিসেবে পরামর্শটি গ্রহণ করুন।
02সঠিক জন্মতথ্য সংগ্রহ করাআপনার জন্মের সময় নথিভুক্ত তারিখ, সময় ও স্থান খুঁজে বের করুন।
আগে লিখিত নথি দেখুন
হাসপাতালের নথি, জন্মের শংসাপত্র বা জন্মের কাছাকাছি সময়ে লেখা পরিবারের কোনো নোট খুঁজুন। জন্মের দিনেই লেখা সময়, বহু বছর পরে মনে করে বলা সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
সঠিক জন্মস্থান লিখুন
যে শহর বা জনপদে এবং যে দেশে আপনার জন্ম হয়েছে, তা লিখুন। পরিবার পরে কোথায় থাকত, সেটি জন্মস্থান নয়। এই স্থান থেকেই জন্মকুণ্ডলীর গণনায় ব্যবহৃত স্থানাঙ্ক ও সময় অঞ্চল ঠিক হয়।
না-জানা তথ্য অনুমান করে পূরণ করবেন না
সময় পাওয়া না গেলে বা পরিবারের সদস্যেরা আলাদা সময় বললে, প্রত্যেকটি সূত্র কী বলছে তা লিখে সব তথ্য জানান। যে সময়টি ঠিক মনে হচ্ছে সেটি বেছে নেওয়ার চেয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্পষ্ট করে বলা বেশি উপকারী।
জানা থাকলে বলুন, নথিভুক্ত সময়টি স্থানীয় মানক সময়ে লেখা, নাকি ডেলাইট সেভিং সময়ে। এমন ছোট তথ্যও গণনা করা লগ্নে প্রভাব ফেলে।
03বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করাসম্পর্কের যে প্রশ্নগুলি আপনার কাছে জরুরি, সেগুলি নিয়ে কথা বলার প্রস্তুতি নিন।
কী জানতে চাইছেন, স্পষ্ট করুন
কোনো নির্দিষ্ট বিয়ের প্রস্তাব, বর্তমান সম্পর্ক, নাকি জীবনসঙ্গী সম্পর্কে আপনার সামগ্রিক ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে চান, তা ঠিক করুন। প্রতিটি ক্ষেত্রে আলোচনা আলাদা হবে, তাই শুরুতেই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে বলুন।
অন্যের তথ্য দেওয়ার আগে অনুমতি নিন
অন্য কারও জন্মতথ্য তাঁর জ্ঞাতসারে এবং অনুমতি নিয়েই দিন। জন্মকুণ্ডলী দেওয়ার আগে তথ্যটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, নিশ্চিত হয়ে নিন।
সিদ্ধান্ত আপনার হাতেই রাখুন
প্রথাগত গুণ মিলনে দুটি জন্মকুণ্ডলী পাশাপাশি দেখা হয়। তবে এটি খোলামেলা আলোচনা, মিল থাকা মূল্যবোধ এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর বিকল্প নয়। নিজের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করতে পরামর্শ নিন; সিদ্ধান্তের দায় অন্যের হাতে তুলে দেবেন না।
কোনো জন্মকুণ্ডলী বিয়ের তারিখ বা দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। প্রথাগত ব্যাখ্যায় প্রবণতা ও সময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তা আপনার নিজের সিদ্ধান্তগুলিকে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত।
04কর্মজীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করাআপনার সামনে থাকা বিকল্প ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলুন।
সামনে থাকা সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট করুন
কী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান, বলুন—চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ, পেশা বদল, ব্যবসা শুরু, নাকি বর্তমান কাজ চালিয়ে যাওয়া। নির্দিষ্ট বিকল্প ও সময়সীমা থাকলে আলোচনা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত থাকে।
নিজের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি জানান
আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং কোথায় কাজ করতে পারবেন তার সীমাবদ্ধতা লিখুন। কর্মজীবন সম্পর্কে প্রথাগত ইঙ্গিতগুলি আপনার বাস্তব সামর্থ্যের আলোকে আলোচনা করা হয়; এগুলি প্রশিক্ষণ, পরিচিতি তৈরি বা সঞ্চয়ের বিকল্প নয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে নিন
পরামর্শ শেষ হওয়ার আগে জিজ্ঞেস করুন, আগামী কয়েক মাসে কী চেষ্টা, পরীক্ষা বা প্রস্তুতি নিতে পারেন। গ্রহের ইঙ্গিত সম্পর্কে যা-ই বলা হোক, কার্যকর পরামর্শের শেষে আপনার হাতে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ থাকা উচিত।
দুটি চাকরির প্রস্তাবের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হলে, প্রতিটির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সঙ্গে রাখুন। সাধারণভাবে কোন পেশা মানাবে জিজ্ঞেস করার চেয়ে নির্দিষ্ট বিকল্পের তুলনা বেশি ফলপ্রসূ।
05পড়াশোনা ও শিক্ষার পথ নিয়ে প্রশ্ন করাকোর্স, নিজের আগ্রহ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভেবে দেখুন।
আপনার কাছে বাস্তবে থাকা সুযোগগুলি লিখুন
যে কোর্স, পরীক্ষা, বৃত্তি বা প্রতিষ্ঠানে আবেদনের যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, সেগুলির নাম এবং তারিখ লিখুন। সম্ভাব্য সব বিষয় নিয়ে আলোচনার চেয়ে বাস্তব সুযোগগুলিকে ভিত্তি করে আলোচনা বেশি কাজে দেয়।
নিজের আগ্রহ ও বাইরের চাপ আলাদা করুন
কোন লক্ষ্যগুলি আপনার নিজের এবং কোনগুলি পরিবার বা বন্ধুদের প্রত্যাশা থেকে এসেছে, লিখে রাখুন। এতে আপনি কী গড়ে তুলতে চান, আলোচনাটি সেদিকে থাকতে পারে; আপনার নিজের সঙ্গে না-মেলা প্রত্যাশা তার মূল বিষয় হয়ে ওঠে না।
জন্মকুণ্ডলীর ব্যাখ্যার পাশাপাশি তথ্য যাচাই করুন
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা, কোর্সের খরচ এবং বাস্তব কর্মজীবনের সুযোগ যাচাই করুন। জন্মকুণ্ডলীর প্রথাগত ব্যাখ্যা আপনার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না এবং শিক্ষা বা কর্মজীবনের পরামর্শের বিকল্পও নয়।
অভিভাবক কোনো শিক্ষার্থীর জন্য পরামর্শের সময় ঠিক করলে, শিক্ষার্থীর নিজের ইচ্ছায় অংশ নেওয়া উচিত। যিনি পড়াশোনা করছেন, তিনি নিজে প্রশ্ন করলে আলোচনা সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
06দশা ও গোচর বোঝাবৈদিক জ্যোতিষের পরিচিত দুটি ধারণা সম্পর্কে জানুন।
দশা কী
দশা হলো কোনো গ্রহের অধীনে ধরা একটি সময়পর্ব। বহুল ব্যবহৃত বিংশোত্তরী পদ্ধতিতে জীবনকে বিভিন্ন গ্রহের অধীন পর্বে ভাগ করা হয়; প্রতিটি পর্বের আবার উপপর্ব থাকে। প্রথাগত ব্যাখ্যায় পর্বটির অধিপতি গ্রহ সেই সময়ের বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করছে বলে ধরা হয়।
গোচর কী
গোচর হলো আপনার জন্মকুণ্ডলীর তুলনায় কোনো গ্রহের বর্তমান অবস্থান। কোন গ্রহ, কোন তারিখ এবং জন্মকুণ্ডলীর কোন ভিত্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর এই তুলনা নির্ভর করে।
পরামর্শে এগুলি কীভাবে কাজে লাগাবেন
আপনি কোন দশায় রয়েছেন এবং প্রথাগতভাবে তার সঙ্গে কোন বিষয়গুলি যুক্ত, তা জিজ্ঞেস করুন। তারপর নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে ভাবুন। উত্তরটিকে ভাবনা ও পরিকল্পনার সহায়ক ব্যাখ্যা হিসেবে নিন, ঘটনাবলির নির্দিষ্ট সময়সূচি হিসেবে নয়।
দশার ফল ব্যবহৃত পদ্ধতি, জন্মতথ্য এবং গণনার সেটিংসের উপর নির্ভর করে। বিভিন্ন দশার তারিখ তুলনা করার আগে এগুলি মিলিয়ে নিন।
07জন্মসময় নিশ্চিত না হলে কী করবেনসঠিক সময় জানেন না? যতটুকু জানেন, সেখান থেকেই শুরু করুন।
সময় অনিশ্চিত হলে আগে জানান
পরামর্শের আগেই বলুন, জন্মসময়টি নির্ভুল, আনুমানিক, নাকি একেবারেই অজানা—এবং তথ্যটি কোথা থেকে জানলেন। ‘ভোরবেলা’ বা ‘ছয়টা থেকে আটটার মধ্যে’ এমন সময়সীমাও কাজে লাগতে পারে।
কোন বিষয়গুলি বদলাতে পারে, বুঝুন
লগ্ন ও ভাবের গণনা জন্মসময়ের উপর নির্ভর করে। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান হলে জন্মনক্ষত্র বা পাদও বদলাতে পারে। জন্মকুণ্ডলী বা গুণ মিলনের নম্বরের উপর নির্ভর করার আগে জিজ্ঞেস করুন, সম্ভাব্য সময়সীমার মধ্যে কোন তথ্যগুলি অপরিবর্তিত থাকছে।
কোন আলোচনা নির্ভরযোগ্যভাবে করা যাবে, জিজ্ঞেস করুন
আপনার কাছে থাকা তথ্য দিয়ে পরামর্শ কাজে আসবে কি না, জিজ্ঞেস করুন। জন্মসময় সংশোধনের প্রস্তাব দিলে পদ্ধতিটি কী এবং কোন অনিশ্চয়তা থেকে যাবে, তা জানুন। এটি প্রথাগত অনুমান, আসল জন্মসময়ের প্রমাণ নয়।
চন্দ্রের অবস্থান একাধিক নক্ষত্র বা পাদে পড়তে পারলে, জন্মতথ্য নিশ্চিত ধরে একটি গুণ মিলনের নম্বর ব্যবহার করবেন না।
08অনলাইন পরামর্শ কীভাবে হয়আচার্য স্মৃতি রুবির সঙ্গে আলোচনার একটি সহজ পরিচিতি।
প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি আগে নিশ্চিত করুন
বুকিংয়ের আগে Astro Aunty-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পারিশ্রমিক, আলোচনার ভাষা, সময়কাল এবং কোন মাধ্যমে কথা হবে, নিশ্চিত করুন। এগুলি লিখিতভাবে ঠিক করে নিন, যাতে পরামর্শের দিন অপ্রত্যাশিত কিছু না থাকে। বাতিল করা বা সময় বদলানোর শর্তও জেনে নিন।
আগে থেকেই নিজের তথ্য পাঠান
পরামর্শের সময় নিশ্চিত হওয়ার পর জিজ্ঞেস করুন, কীভাবে এবং কখন জন্মতথ্য ও দুই বা তিনটি প্রশ্ন পাঠাবেন, যাতে আচার্য স্মৃতি রুবি প্রস্তুতি নিতে পারেন।
কলের প্রস্তুতি নিন
ভালো ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন শান্ত জায়গা বেছে নিন। মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা পরীক্ষা করুন এবং পাশে একটি খাতা রাখুন। নিজের প্রয়োজনে কথোপকথন রেকর্ড করতে চাইলে আগে অনুমতি নিন।
অনলাইন বুকিংয়ে সময় অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ। সময় ঠিক করার সময় নিজের শহর জানান, যাতে আপনার এবং পরামর্শদাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী সাক্ষাতের সময় নিশ্চিত করা যায়।
09পারিবারিক প্রশ্ন নিয়ে পরামর্শে আসানিজের উদ্বেগ দিয়ে শুরু করুন, সকলের গোপনীয়তা সম্মান করুন এবং সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখুন।
এখন কী ঘটছে, সেখান থেকে শুরু করুন
হয়তো বাসস্থান বদলানোর কথা ভাবছেন, প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে, অথবা পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তায় আছেন। কী ঘটেছে তা এক বাক্যে, আর কোন প্রশ্নটি নিয়ে ভাবতে চান তা আরেক বাক্যে লিখুন। শুরুতেই পরিবারের পুরো ইতিহাস বলতে হবে না।
নিজের সিদ্ধান্ত ও অন্যের সিদ্ধান্ত আলাদা করুন
যেমন, ‘বাড়ি বদলানোর বিষয়ে কথা বলার প্রস্তুতি কীভাবে নেব?’—এই প্রশ্নে নিজের অগ্রাধিকার নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে। কিন্তু ‘জন্মকুণ্ডলী কি আমার পরিবারকে রাজি করাতে পারে?’—এই প্রত্যাশা কোনো পরামর্শ পূরণ করতে পারে না। দুটি বাস্তবসম্মত বিকল্প নিয়ে আসুন এবং প্রতিটিতে আপনার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ, বলুন।
অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখুন
অন্য কারও জন্মতথ্য বা ব্যক্তিগত বার্তা তাঁর অনুমতি নিয়েই জানান। আত্মীয়ের জন্মকুণ্ডলী না দিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা যায়। পরামর্শের আগে জিজ্ঞেস করুন, কী তথ্য লাগবে এবং তা কীভাবে ব্যবহার হবে।
একটি বাস্তব পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন
নিজের অগ্রাধিকার লিখতে পারেন, পরিবারের কাউকে শান্তভাবে কথা বলার অনুরোধ করতে পারেন, অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাকি তথ্য জোগাড় করতে পারেন। ভাবনার অংশ হিসেবে জ্যোতিষ ব্যবহার করলে জিজ্ঞেস করুন, কোন কথাগুলি প্রথাগত ব্যাখ্যা এবং কোনগুলি অনিশ্চিত জন্মতথ্যের উপর নির্ভর করছে।
জন্মকুণ্ডলী অন্যের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারে না, তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের অধিকারও কেড়ে নিতে পারে না। পরামর্শ হলো আলোচনা; পারিবারিক মতভেদ মিটবেই, এমন নিশ্চয়তা নয়।
10জন্মকুণ্ডলীর ডিগ্রি কী জানায়১৪° বৃষের মতো অবস্থান পড়তে শিখুন এবং পুরো রাশিচক্র ধরে মাপা ডিগ্রির সঙ্গে তার পার্থক্য বুঝুন।
একটি বৃত্ত দিয়ে শুরু করুন
রাশিচক্র হলো ৩৬০ ডিগ্রির একটি বৃত্ত, যা সমান ১২টি রাশিতে ভাগ করা। প্রতিটি রাশি ৩০ ডিগ্রির। প্রথাগত ক্রম শুরু হয় মেষ দিয়ে। রিপোর্টের কোনো সংখ্যা পুরো বৃত্তের শুরু থেকে দূরত্ব অথবা একটি রাশির শুরু থেকে দূরত্ব—যেকোনোটি বোঝাতে পারে। আপনার রিপোর্টে কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে, দেখুন।
ডিগ্রি থেকে রাশির অবস্থান বের করুন
ধরুন, কোনো বিন্দু মেষের শুরু থেকে ৪৪ ডিগ্রি দূরে রয়েছে। প্রথম ৩০ ডিগ্রি মেষ রাশির, তাই ৩০ বাদ দিন। বাকি থাকে ১৪। অর্থাৎ বিন্দুটি বৃষ রাশির ১৪ ডিগ্রিতে, রাশিটির মাঝামাঝির একটু আগে রয়েছে।
ছোট ভাগগুলিও দেখুন
অনুবাদকের টীকায় প্রতিটি ৩০ ডিগ্রির রাশির আরও সূক্ষ্ম ভাগের কথা আছে: ১৫°-এর দুটি অর্ধাংশ, ১০°-এর তিনটি অংশ, ৩°২০′-এর নয়টি অংশ, ২°৩০′-এর বারোটি অংশ এবং ১°-এর ত্রিশটি অংশ। বৃষের ১৪°-এ থাকা বিন্দুটি প্রথম অর্ধাংশ ও দ্বিতীয় তৃতীয়াংশে পড়ে। ডিগ্রি থেকেই এই সব ভাগ নির্ধারিত হয়।
নিজের রিপোর্টে অনুশীলন করুন
জন্মকুণ্ডলীর ছাপানো রিপোর্ট থাকলে তালিকার একটি ডিগ্রি বেছে নিয়ে নিজে রূপান্তরটি করুন। হাতে হিসাব মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি ভালো বোঝা যায় এবং টাইপ করার বা সফটওয়্যারের ভুল ধরতেও সুবিধা হয়।
একই রাশিচক্র ও অয়নাংশের সেটিংস দিয়ে গণনা করা অবস্থানগুলির তুলনা করুন। নির্ভুল স্থানাঙ্ক একটি অবস্থান জানায়; তা জ্যোতিষের ব্যাখ্যাকে যাচাইকৃত ভবিষ্যদ্বাণী করে তোলে না।
11নবাংশ জন্মকুণ্ডলী কীনবাংশ হলো মূল অবস্থান থেকে তৈরি একটি বিভাগীয় জন্মকুণ্ডলী। প্রতিটি রাশিকে সমান নয়টি ভাগে ভাগ করে, কোনো অবস্থান যে ভাগে পড়েছে সেই অনুযায়ী তাকে নতুনভাবে সাজানো হয়।
প্রতিটি রাশির নয়টি ভাগ
প্রতিটি ৩০ ডিগ্রির রাশিতে ৩°২০′ করে নয়টি নবাংশ থাকে। বারোটি রাশিতে মোট ১০৮টি নবাংশ হয়। অনুবাদক উল্লেখ করেছেন, ২৭টি নক্ষত্রের প্রতিটিকে চার ভাগে ভাগ করলেও মোট ১০৮ হয়। তাই একটি নবাংশ একটি নক্ষত্রের এক পাদ বা চতুর্থাংশের সঙ্গে মিলে যায়।
গণনা কোথা থেকে শুরু হয়
নবাংশের নাম বারোটি রাশির নামেই হয়। মেষের শুরু থেকে একই ক্রম বারবার অনুসরণ করা হয়। এর ফলে মেষ, সিংহ ও ধনুর প্রথম নবাংশ মেষ। বৃষ, কন্যা ও মকরের প্রথম নবাংশ মকর। মিথুন, তুলা ও কুম্ভের প্রথম নবাংশ তুলা। কর্কট, বৃশ্চিক ও মীনের প্রথম নবাংশ কর্কট।
একটি হিসাবের উদাহরণ
বৃষের ৫°-এ থাকা একটি বিন্দু ধরুন। প্রথম ভাগ, ০° থেকে ৩°২০′, মকর নবাংশ; দ্বিতীয় ভাগ, ৩°২০′ থেকে ৬°৪০′, কুম্ভ নবাংশ। তাই নবাংশ জন্মকুণ্ডলীতে—আধুনিক সফটওয়্যারে যাকে প্রায়ই D9 বলা হয়—বিন্দুটি কুম্ভে বসবে। আকাশে নতুন কিছু দেখা হয়নি; একই অবস্থানকে শুধু অন্য নিয়মে সাজানো হয়েছে।
নিজে একটি হিসাব করুন
নিজের কোনো জন্মকুণ্ডলী থেকে একটি ডিগ্রি বেছে নিয়ে হাতে তার নবাংশ বের করুন। প্রতিটি ভাগ মাত্র ৩°২০′ চওড়া। তাই নথিভুক্ত ডিগ্রিতে সামান্য ভুল—যেমন অনিশ্চিত জন্মসময়ের কারণে হওয়া ভুল—ফলটিকে পরের রাশিতে নিয়ে যেতে পারে। সীমান্তের কাছের অবস্থান নিয়ে সতর্ক থাকুন।
Astro Aunty-র বিনামূল্যের গুণ মিলানে চন্দ্রের অবস্থান থেকে 36-এর মধ্যে নম্বর পাওয়া যায়। দুজনের জন্মতারিখ, সময় ও স্থান দিলে D1, চন্দ্র ও D9 কুণ্ডলী এবং আলাদা সম্পর্ক-বিশ্লেষণও দেখা যায়। শুধু নক্ষত্র ও পদ দিলে কেবল গুণের নম্বর পাওয়া যায়।
12রাশিগুলির প্রথাগত অধিপতি গ্রহপ্রতিটি রাশির প্রথাগত অধিপতি গ্রহ জানুন এবং সহজ উদাহরণ দিয়ে নিজের জন্মকুণ্ডলীতে মিলিয়ে দেখুন।
সাত অধিপতির সঙ্গে পরিচয়
বৃহৎ জাতকে সাতটি গ্রহকে রাশির অধিপতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে: সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি ও শনি। সূর্য ও চন্দ্রের অধীনে একটি করে রাশি; বাকি পাঁচটি গ্রহের অধীনে দুটি করে রাশি। এভাবেই বারোটি রাশি ভাগ করা হয়।
সম্পূর্ণ তালিকা
মঙ্গল মেষ ও বৃশ্চিকের অধিপতি। শুক্র বৃষ ও তুলার অধিপতি। বুধ মিথুন ও কন্যার অধিপতি। চন্দ্র কর্কটের এবং সূর্য সিংহের অধিপতি। বৃহস্পতি ধনু ও মীনের অধিপতি। শনি মকর ও কুম্ভের অধিপতি। কোনো গ্রহের নিজের রাশিকে তার স্বক্ষেত্র বলা হয়।
সহজভাবে মিলিয়ে দেখা
রিপোর্টে চন্দ্র কন্যায় রয়েছে লেখা থাকলে, সেই রাশির অধিপতি বুধ। অনুবাদকের টীকায় বলা হয়েছে, নবাংশ ও দ্বাদশাংশেও একই অধিপতি প্রযোজ্য। তাই কুম্ভ নামের নবাংশের অধিপতিও শনি।
একটি রাশিচক্র এঁকে রাখুন
মেষ থেকে শুরু করে বারোটি রাশির নাম একটি বৃত্তে লিখুন এবং পাশে অধিপতির নাম দিন। দেখবেন, দুই দিকে আয়নার মতো একটি বিন্যাস রয়েছে। কর্কট ও সিংহকে মাঝখানে রাখলে, দুই পাশেই বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি একই ক্রমে আসে।
অধিপত্য হলো তথ্য মেলানোর জন্য ব্যবহৃত একটি প্রথাগত নির্ধারণ। এটি ভবিষ্যদ্বাণী নয় এবং কোনো রাশি অন্যটির চেয়ে ভালো বা খারাপ, এমনও বোঝায় না। এই অংশে শুধু ওই সাতটি গ্রহের কথা আছে; রাহু বা কেতুকে কোনো রাশির অধিপতি করা হয়নি।
13রাশি কীরাশি হলো রাশিচক্রের সমান বারোটি ৩০ ডিগ্রির অংশের একটি। পরিচিত প্রাণী বা ছবিটি সেই অংশের প্রতীক।
মাপ দিয়ে শুরু করুন
রাশিচক্র হলো সমান বারো ভাগে ভাগ করা ৩৬০ ডিগ্রির একটি বৃত্ত। প্রতিটি রাশি ৩০ ডিগ্রি চওড়া। নাম থেকে বোঝা যায় কোন অংশ দেখছেন; ডিগ্রি জানায় ওই অংশের মধ্যে বিন্দুটি কোথায় রয়েছে। দুটিই একই ঠিকানার দুটি অংশ।
একবার ক্রমটি শিখে নিন
রাশির ক্রম হলো মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন। মীনের পরে আবার মেষ থেকে গণনা শুরু হয়।
প্রতীক দেখে নাম মনে রাখুন
প্রথাগত ছবির মধ্যে রয়েছে মীনের দুটি মাছ, কুম্ভের জলভরা কলস হাতে মানুষ এবং মিথুনের এক পুরুষ ও এক নারী। এই ছবিগুলি নাম মনে রাখতে সাহায্য করে। ছবি রাশির মাপ বা সীমানা বদলায় না।
একটি হিসাব করে দেখুন
ধরুন, একটি বিন্দু মেষের শুরু থেকে ৪৫ ডিগ্রি দূরে রয়েছে। মেষের প্রথম ৩০ ডিগ্রি বাদ দিলে থাকে ১৫। তাই বিন্দুটি বৃষের ১৫ ডিগ্রিতে। ঠিক ৩০ ডিগ্রি থেকেই বৃষের ০ ডিগ্রি শুরু হয়। একটি বৃত্ত এঁকে প্রতি ৩০ ডিগ্রিতে দাগ দিন এবং ক্রম অনুযায়ী বারোটি নাম লিখুন।
14নক্ষত্র ও পাদের মধ্যে পার্থক্য কীনক্ষত্র হলো রাশিচক্রের সমান ২৭টি অংশের একটি। পাদ হলো একটি নক্ষত্রের সমান চারটি ভাগের একটি।
বৃত্তটিকে ২৭ দিয়ে ভাগ করুন
৩৬০ ডিগ্রিকে ২৭ দিয়ে ভাগ করলে প্রতিটি নক্ষত্রের জন্য ১৩ ডিগ্রি ২০ মিনিট পাওয়া যায়। এখানে মিনিট দিয়ে কোণ মাপা হচ্ছে: ৬০ মিনিটে এক ডিগ্রি। ক্রম শুরু হয় মেষের শুরুতে অশ্বিনী দিয়ে এবং শেষ হয় মীনের শেষে রেবতীতে।
প্রতিটি নক্ষত্রকে চার ভাগ করুন
প্রতিটি চতুর্থাংশ বা পাদ ৩°২০′ চওড়া, কারণ ১৩°২০′ ÷ ৪ = ৩°২০′। পুরো বৃত্তে ১০৮টি পাদ এবং প্রতিটি ৩০ ডিগ্রির রাশিতে নয়টি পাদ থাকে। ঠিক সীমানায় পড়লে পরের পাদ ধরুন। চতুর্থ পাদের পরে পরের নক্ষত্রের প্রথম পাদ শুরু হয়।
রাশি ও নক্ষত্র কীভাবে মিলে যায়, দেখুন
প্রতিটি রাশিতে সওয়া দুটি নক্ষত্র থাকে, তাই তাদের শুরুর স্থান সব সময় মেলে না। কৃত্তিকার প্রথম পাদ মেষে পড়ে, কিন্তু দ্বিতীয় পাদ থেকে বৃষ শুরু হয়। তাই একটি নক্ষত্র দুটি রাশির মধ্যে ছড়িয়ে থাকতে পারে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
চন্দ্র মেষের ১৮°-এ থাকলে তা অশ্বিনীর শেষের ৪°৪০′ পরে, অর্থাৎ ভরণীতে পড়ে। ভরণীর দ্বিতীয় পাদ ৩°২০′ থেকে শুরু হয়ে ৬°৪০′-এর ঠিক আগে শেষ হয়। তাই ফল হলো ভরণী, পাদ ২। অন্য রাশির ক্ষেত্রে আগে মেষ থেকে মোট ডিগ্রি গুনুন: বৃষের ১৮° মানে ৩০° + ১৮° = ৪৮°। এই মোট ডিগ্রি ব্যবহার করে আরেকটি অবস্থান বের করুন।
Astro Aunty-র বিনামূল্যের গুণ মিলানে চন্দ্রের অবস্থান থেকে 36-এর মধ্যে নম্বর পাওয়া যায়। দুজনের জন্মতারিখ, সময় ও স্থান দিলে D1, চন্দ্র ও D9 কুণ্ডলী এবং আলাদা সম্পর্ক-বিশ্লেষণও দেখা যায়। শুধু নক্ষত্র ও পদ দিলে কেবল গুণের নম্বর পাওয়া যায়।
15জন্মকুণ্ডলীতে হোরা কী বোঝায়এই পদ্ধতিতে হোরা হলো একটি রাশির দুটি ১৫ ডিগ্রির অর্ধাংশের একটি, যা সূর্য অথবা চন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিটি রাশিকে অর্ধেক করুন
প্রতিটি রাশি ৩০ ডিগ্রি চওড়া। প্রথম হোরা ০° থেকে শুরু হয়ে ১৫°-এর ঠিক আগে শেষ হয়। দ্বিতীয়টি ১৫° থেকে শুরু হয়ে ৩০°-এর আগে শেষ হয়। ঠিক ১৫° দ্বিতীয় অর্ধাংশের মধ্যে পড়ে; ৩০°-এ পরের রাশি শুরু হয়। বারোটি রাশিতে মোট ২৪টি অর্ধাংশ থাকে।
বিজোড় ও জোড় রাশি চিহ্নিত করুন
মেষকে এক নম্বর ধরুন। বিজোড় রাশিগুলি হলো মেষ, মিথুন, সিংহ, তুলা, ধনু ও কুম্ভ। জোড় রাশিগুলি হলো বৃষ, কর্কট, কন্যা, বৃশ্চিক, মকর ও মীন।
সূর্য ও চন্দ্রের ক্রম প্রয়োগ করুন
বিজোড় রাশিতে প্রথম অর্ধাংশ সূর্যের হোরা এবং দ্বিতীয় অর্ধাংশ চন্দ্রের হোরা। জোড় রাশিতে ক্রমটি উল্টো: আগে চন্দ্র, পরে সূর্য। বেছে নেওয়ার আগে রাশির নম্বর ও ডিগ্রি দুটিই যাচাই করুন।
দুটি উদাহরণ মিলিয়ে দেখুন
সিংহের ২০°-এ থাকা গ্রহ একটি বিজোড় রাশির দ্বিতীয় অর্ধাংশে রয়েছে, তাই এটি চন্দ্রের হোরায় পড়ে। বৃষের ১০°-এ থাকা গ্রহ একটি জোড় রাশির প্রথম অর্ধাংশে, সেটিও চন্দ্রের হোরা। অন্য একটি রাশি ও ডিগ্রি বেছে নিয়ে তার সূর্য বা চন্দ্রের হোরা নির্ধারণ করুন।
এই লেখায় রাশির অর্ধাংশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রহ-হোরা অনুযায়ী দিনের ঘণ্টা গণনা একটি আলাদা বিষয়।
16দ্রেক্কাণের তিনটি ভাগ বোঝাদ্রেক্কাণ হলো একটি রাশির তিনটি ১০ ডিগ্রির অংশের একটি। এই পদ্ধতিতে মূল রাশি থেকে গুনে প্রতিটি অংশের অধিপতি নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিটি রাশিকে তিন ভাগ করুন
৩০ ডিগ্রির একটি রাশির তিনটি অংশ হলো: ০° থেকে ১০°-এর কম, ১০° থেকে ২০°-এর কম এবং ২০° থেকে ৩০°-এর কম। ঠিক সীমানায় পড়লে পরের অংশ ধরুন; ৩০°-এ পরের রাশি শুরু হয়। বারোটি রাশিতে মোট ৩৬টি দ্রেক্কাণ থাকে।
এক, পাঁচ ও নয় গুনুন
প্রথম অংশের অধিপতি সেই রাশির নিজের অধিপতি। দ্বিতীয় অংশের অধিপতি হলো ওই রাশি থেকে পঞ্চম রাশির অধিপতি, আর তৃতীয় অংশের অধিপতি নবম রাশির অধিপতি। গণনায় শুরুর রাশিটিকে সব সময় এক নম্বর ধরবেন।
অধিপতিদের মিলিয়ে নিন
মঙ্গল মেষ ও বৃশ্চিকের অধিপতি; শুক্র বৃষ ও তুলার; বুধ মিথুন ও কন্যার। চন্দ্র কর্কটের এবং সূর্য সিংহের অধিপতি। বৃহস্পতি ধনু ও মীনের অধিপতি; শনি মকর ও কুম্ভের।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
কন্যার ১৪°-এ থাকা বিন্দুটি দ্বিতীয় অংশে পড়ে। কন্যাকে নিয়ে পাঁচটি রাশি গুনুন: কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর। মকরের অধিপতি শনি। তৃতীয় অংশের জন্য কন্যা থেকে নবম রাশি হলো বৃষ, যার অধিপতি শুক্র। এবার মেষের একটি ডিগ্রি নিয়ে দেখুন: তার অংশ নির্ধারণ করুন, প্রয়োজনীয় রাশি পর্যন্ত গুনুন, তারপর সেই রাশির অধিপতি দেখুন।
17দ্বাদশাংশের সহজ পরিচয়দ্বাদশাংশে প্রতিটি রাশিকে ২°৩০′ করে বারো ভাগ করা হয়। ভাগগুলির নাম মূল রাশি থেকে শুরু করে রাশিচক্রের ক্রম অনুসরণ করে।
প্রতিটি অংশের মাপ বের করুন
৩০ ডিগ্রির একটি রাশিকে বারো দিয়ে ভাগ করলে প্রতিটি অংশ হয় আড়াই ডিগ্রি, অর্থাৎ ২°৩০′। প্রথমটি শুরু হয় ০°-এ, দ্বিতীয়টি ২°৩০′-এ এবং তৃতীয়টি ৫°-এ। প্রতিটি সীমানার অবস্থান পরের অংশের মধ্যে পড়ে। ৩০°-এ পরের রাশি শুরু হয়।
ক্রম অনুযায়ী ভাগগুলির নাম দিন
প্রথম অংশের নাম মূল রাশির নিজের নাম। মেষে ক্রমটি শুরু হয় মেষ, বৃষ, মিথুন দিয়ে এবং মীন পর্যন্ত যায়। বৃষে শুরু হয় বৃষ দিয়ে এবং শেষ হয় মেষে। প্রতিটি রাশিতে নতুন করে বারো ভাগের গণনা শুরু করুন।
অধিপতি মিলিয়ে দেখুন
যে রাশির নামে অংশটির নাম, সেই রাশির অধিপতিই অংশটির অধিপতি। যেমন, ধনু নামের অংশটির অধিপতি বৃহস্পতি। আগে অংশটি ও তার নাম বের করুন, তারপর সেই নামের রাশির অধিপতি মিলিয়ে নিন।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
মিথুনের ১৭° ধরুন। ১৭ ÷ ২.৫ = ৬.৮, তাই ছয়টি অংশ পার হয়েছে এবং বিন্দুটি সপ্তম অংশে পড়েছে। এই অংশ ১৫° থেকে ১৭°৩০′-এর ঠিক আগে পর্যন্ত। গুনুন: মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু। সপ্তম অংশ ধনু, যার অধিপতি বৃহস্পতি। অন্য একটি ডিগ্রি বেছে নিয়ে একই হিসাব করুন; শুরুর রাশিটিকেও গণনায় রাখবেন।
18কোন ভাবগুলিকে কেন্দ্র বলা হয়১, ৪, ৭ ও ১০ নম্বর ভাব মিলে কেন্দ্র গোষ্ঠী। এখানকার উদাহরণে একটি সম্পূর্ণ রাশিকে একটি ভাব ধরা হয়েছে।
শুরুর স্থান বেছে নিন
এই উদাহরণগুলিতে পূর্ণ-রাশি পদ্ধতি ব্যবহার করুন: উদিত রাশি বা লগ্ন হলো প্রথম ভাব, এবং তার পরের প্রতিটি রাশি পরের ভাব। অন্য ভাব-পদ্ধতিতে সীমানা আলাদা হতে পারে। তাই ভাবের নম্বর দেওয়ার আগে লগ্নরাশি চিহ্নিত করুন।
অবস্থানগুলির ব্যবধান দেখুন
সমান ভাগ করা এই রাশিচক্রে ১, ৪, ৭ ও ১০ নম্বর ভাবের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ বৃত্তের দূরত্ব থাকে। ১ থেকে তিন ধাপ এগিয়ে ৪, তারপর ৭, তারপর ১০-এ যান। আরও তিন ধাপ এগোলে আবার ১-এ ফিরবেন। এই অবস্থানগুলিকে একসঙ্গে কেন্দ্র বলা হয়; ইংরেজিতে প্রায়ই angles বা quadrants বলা হয়।
অন্য নামগুলিও চিনে রাখুন
একই গোষ্ঠীর জন্য কণ্টক বা চতুষ্টয় নামও দেখতে পারেন। আলাদা ভাবেরও অন্য নাম থাকে: চতুর্থ ভাব সুখ, সপ্তম জামিত্র এবং দশম কর্ম নামে পরিচিত। এই নামগুলি আগেই গোনা অবস্থানগুলিকেই বোঝায়; নতুন ভাব যোগ করে না।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
কর্কট লগ্ন হলে গুনুন: কর্কট ১, সিংহ ২, কন্যা ৩, তুলা ৪। এভাবে এগোলে মকর ৭ এবং মেষ ১০ হয়। তাই কেন্দ্রগুলি হলো কর্কট, তুলা, মকর ও মেষ। বারো রাশির একটি চক্র এঁকে চারটি অবস্থান চিহ্নিত করুন এবং অন্য লগ্ন দিয়ে আবার করুন।
19কেন্দ্রগুলির মাঝের ভাববাকি আটটি ভাব দুটি গোষ্ঠীতে পড়ে: পণফর হলো ২, ৫, ৮ ও ১১; আপোক্লিম হলো ৩, ৬, ৯ ও ১২।
প্রতিটি কেন্দ্রের পরের ভাবে যান
কেন্দ্র দিয়ে শুরু করুন: ১, ৪, ৭ ও ১০ নম্বর ভাব। প্রত্যেকটির ঠিক পরের ভাব পণফর গোষ্ঠীতে পড়ে। এক যোগ করলে হয় ২, ৫, ৮ ও ১১। ভাবের নম্বর ধরে সামনের দিকে গুনতে থাকুন।
আরও এক ভাব এগোন
তার পরের ভাবগুলি আপোক্লিম গোষ্ঠী তৈরি করে: ৩, ৬, ৯ ও ১২। ক্রমটি বারবার ফিরে আসে—কেন্দ্র, পণফর, আপোক্লিম। ১২ নম্বর ভাবের পরে আবার প্রথম ভাবে, অর্থাৎ কেন্দ্রে ফেরা হয়।
বারোটি নম্বর মিলিয়ে দেখুন
প্রতিটি গোষ্ঠী আলাদা লাইনে লিখুন। তিনটি গোষ্ঠী মিলিয়ে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত প্রতিটি নম্বর ঠিক একবার থাকা উচিত। যেমন, ৭ কেন্দ্র, ৮ পণফর, ৯ আপোক্লিম, আর ১০ থেকে ক্রম আবার শুরু। এভাবে তিনটি আলাদা ক্রম মুখস্থ না করেও তালিকা যাচাই করতে পারবেন।
উদাহরণে রাশির নাম যোগ করুন
এখানে পূর্ণ-রাশি গণনা ব্যবহার করুন। তুলা লগ্ন হলে তুলা প্রথম ভাব, তারপর প্রতিটি রাশি পরের ভাব। পণফর রাশিগুলি হবে বৃশ্চিক, কুম্ভ, বৃষ ও সিংহ। আপোক্লিম রাশিগুলি হবে ধনু, মীন, মিথুন ও কন্যা। আগে ভাবের নম্বর লিখুন, তারপর চক্রে প্রতিটি গোষ্ঠী আলাদা রঙে চিহ্নিত করুন।
20রাশি ও ভাবের মধ্যে পার্থক্য কীরাশি রাশিচক্রের একটি অংশের নাম। এখানকার পূর্ণ-রাশির উদাহরণে লগ্নরাশি থেকে গুনে ভাবের নম্বর পাওয়া যায়।
রাশির ক্রম অপরিবর্তিত রাখুন
বারোটি রাশি সব সময় মেষ থেকে মীন পর্যন্ত একই ক্রমে থাকে এবং প্রতিটি ৩০ ডিগ্রির। বৃষের ১৪ ডিগ্রিতে থাকা কোনো বিন্দুর রাশি ও ডিগ্রির ঠিকানা অপরিবর্তিত থাকে, ভাব গণনা যে রাশি থেকেই শুরু করুন না কেন।
ভাব গণনার পদ্ধতি বেছে নিন
এই উদাহরণে পূর্ণ-রাশি গণনা ব্যবহার করুন: উদিত রাশি বা লগ্ন হলো প্রথম ভাব। তার পরের প্রতিটি সম্পূর্ণ রাশি পরের ভাব। এভাবে রাশিগুলির উপর ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ভাবের নম্বর বসানো যায়। অন্য ভাব-পদ্ধতির সীমানা আলাদা হতে পারে, তাই রিপোর্টে কোন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে, দেখুন।
একই রাশির আলাদা ভাবের নম্বর দেখুন
আলাদা জন্মকুণ্ডলীতে গণনার শুরুর স্থান বদলাতে পারে। কোনো রাশি লগ্ন হলে সেটি প্রথম ভাব; বিপরীত রাশি লগ্ন হলে সেটিই সপ্তম ভাব হয়। তাই রাশির নাম ও ভাবের নম্বর দুটি আলাদা প্রশ্নের উত্তর দেয়: রাশিচক্রের কোন অংশ, এবং লগ্ন থেকে গণনায় কত নম্বর অবস্থান?
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
মকর লগ্ন হলে মকর প্রথম ভাব, কুম্ভ দ্বিতীয়, মীন তৃতীয়, মেষ চতুর্থ এবং কর্কট সপ্তম। কর্কট লগ্ন হলে কর্কট প্রথম ভাব এবং মকর সপ্তম ভাব হয়। রাশির ক্রম একই রেখে দুটি সম্পূর্ণ তালিকা পাশাপাশি লিখুন এবং নম্বরগুলি তুলনা করুন।
সম্পূর্ণ জন্মতথ্য দিলে Astro Aunty-র কুণ্ডলী ও গুণ মিলানের মূল D1 ছকে প্রতিটি পূর্ণ রাশিকে একটি ভাব ধরা হয়। আলাদা KP তথ্যাংশে Placidus ভাবসন্ধি ব্যবহার করা হয় এবং পদ্ধতির নাম স্পষ্ট করে লেখা থাকে।
21তিথি কেন ক্যালেন্ডারের তারিখের মতো নয়তিথি বা চান্দ্রদিন সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ১২ ডিগ্রি পরিবর্তন মাপে। এটি মধ্যরাত থেকে মধ্যরাতের তারিখ মেনে চলে না।
চন্দ্র ও সূর্যের ব্যবধান বের করুন
একই মুহূর্ত ও একই রাশিচক্রের সেটিংসের জন্য সূর্য ও চন্দ্রের দ্রাঘিমা, অর্থাৎ রাশিচক্রে তাদের অবস্থান নিন। চন্দ্রের মান থেকে সূর্যের মান বাদ দিন। ফল ঋণাত্মক হলে ৩৬০° যোগ করুন। পুরো ৩৬০° আবার ০°-তে ফিরে আসে।
১২ ডিগ্রির অংশ গুনুন
প্রতিটি তিথি ১২° বা ৭২০ কৌণিক মিনিট জুড়ে থাকে। কৌণিক মিনিট দিয়ে কোণ মাপা হয়, ঘড়ির সময় নয়। এমন ত্রিশটি অংশে একটি ৩৬০° চক্র পূর্ণ হয়। ব্যবধানকে ১২ দিয়ে ভাগ করে কতটি অংশ সম্পূর্ণ হয়েছে দেখুন; তার পরেরটিই বর্তমান তিথি।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
চন্দ্র ৬৮° এবং সূর্য ৪২°-এ থাকলে ব্যবধান ২৬°। ১২°-এর দুটি অংশ পূর্ণ হয়েছে এবং আরও ২° বাকি রয়েছে, তাই এটি তৃতীয় তিথি। এটি ঠিক ২৪° থেকে শুরু হয়ে ৩৬°-এর আগে শেষ হয়। ৩৬°-এ চতুর্থ তিথি শুরু হয়।
শেষ হওয়ার সময় পড়ুন
একটি ক্যালেন্ডারের তারিখের মধ্যেই তিথি বদলাতে পারে। পঞ্চাঙ্গ পড়ার সময় তালিকাভুক্ত তিথির শেষ হওয়ার সময় এবং ব্যবহৃত সময় অঞ্চল দেখুন। তারিখ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই নোটও পড়ুন—বিশেষত কোনো তথ্য মধ্যরাত পেরিয়ে চললে।
22করণ কীকরণ হলো অর্ধেক তিথি: সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ৬ ডিগ্রির একটি অংশ।
অর্ধতিথি গুনুন
চন্দ্রের দ্রাঘিমা থেকে সূর্যের দ্রাঘিমা বাদ দিন এবং ফলটি ০° থেকে ৩৬০°-এর কম রাখুন; প্রয়োজন হলে ৩৬০° যোগ করুন। তারপর ৬° দিয়ে ভাগ করুন। ফলে ৩০ তিথির একটি চক্রে ৬০টি অর্ধতিথির অংশ থাকে। ঠিক ৩৬০°-এ চক্রটি আবার শুরু হয়।
একই নাম বারবার আসার নিয়ম বুঝুন
৬০টি অংশের জন্য এগারোটি নাম ব্যবহৃত হয়। আলোকিত অর্ধ বা শুক্লপক্ষের শুরু থেকে গুনুন। প্রথম অংশে একটি স্থির করণ থাকে। ২–৫৭ নম্বর অংশে বব দিয়ে শুরু করে সাতটি নাম আটবার ঘুরে আসে। ৫৮–৬০ নম্বর অংশে বাকি তিনটি স্থির করণ থাকে। তাই চারটি স্থির অবস্থান চক্রের শেষ ও শুরুকে ঘিরে থাকে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
২৬° ব্যবধানে ৬°-এর চারটি পূর্ণ অংশ এবং আরও ২° থাকে, তাই এটি পঞ্চম অংশে পড়ে। এটি তৃতীয় তিথির প্রথমার্ধ। সম্পূর্ণ তিথিটি ২৪° থেকে ৩৬°-এর আগে পর্যন্ত; তার প্রথমার্ধ ৩০°-এর আগে শেষ হয় এবং ৩০° থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয়।
নামের তালিকা মিলিয়ে দেখুন
পঞ্চম অংশটি পুনরাবৃত্ত করণগুলির চতুর্থ, কারণ বব শুরু হয় দ্বিতীয় অংশে। আপনার পঞ্চাঙ্গের করণের তালিকায় তার নাম দেখুন। নিয়ম যাচাই করার সময় ১ ও ৫৮–৬০ নম্বরকে স্থির এবং ২–৫৭ নম্বরকে পুনরাবৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত করুন।
23পঞ্চাঙ্গে যোগ বলতে কী বোঝায়পঞ্জিকার যোগ সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান যোগ করে পাওয়া যায়। এখানে যোগ হলো পঞ্চাঙ্গের একটি মাপ; ব্যায়াম বা জন্মকুণ্ডলীতে গ্রহের বিশেষ সমন্বয় নয়।
দুটি অবস্থান যোগ করুন
একই ছক থেকে একই মুহূর্তের সূর্য ও চন্দ্রের নিরয়ণ দ্রাঘিমা নিন এবং যোগ করুন। মোট ৩৬০° বা বেশি হলে ৩৬০° বাদ দিন; ঠিক ৩৬০° হলে তা ০° হবে। দুটি অবস্থানেই একই রাশিচক্রের পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
২৭টি অংশে ভাগ করুন
প্রতিটি অংশ ১৩°২০′ বা ৮০০ কৌণিক মিনিটের। এই মিনিট কোণ মাপে, ঘড়ির সময় নয়। মোট মানকে কৌণিক মিনিটে বদলে নিলে ১৩°২০′-কে দশমিকে আনুমানিক না করেই ৮০০ দিয়ে ভাগ করা যায়। পুরো বৃত্তে এমন ২৭টি অংশ থাকে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
সূর্য ১০০° এবং চন্দ্র ১৫০°-এ হলে যোগফল ২৫০°, অর্থাৎ ১৫,০০০′। ৮০০ দিয়ে ভাগ করলে ১৮টি পূর্ণ অংশ ও ৬০০′ অবশিষ্ট থাকে। তাই বর্তমান যোগের নম্বর ১৯। ঠিক ২৪০° থেকে এই অংশটিই শুরু হয়; ঠিক ৩৬০°-এ আবার প্রথম যোগ শুরু হয়।
পঞ্চাঙ্গের তথ্য ব্যবহার করুন
পঞ্চাঙ্গের যোগের তালিকা থেকে অংশটির নাম দেখুন। তারপর তার শেষ হওয়ার সময় ও সময় অঞ্চল যাচাই করুন। অবশিষ্ট কৌণিক মান জানায় অংশটির কতটা পেরিয়েছে; এটি ঘড়িতে বাকি থাকা মিনিটের সংখ্যা নয়।
24সৌর ও চান্দ্রমাসের পার্থক্যসৌরমাস একটি রাশিতে সূর্যের চলন অনুসরণ করে; চান্দ্রমাসে ৩০টি তিথি গোনা হয়। তাই দুটির শুরু একসঙ্গে হওয়া জরুরি নয়।
সৌরমাস: একটি রাশি
এই প্রথাগত মাপে সূর্য একটি ৩০ ডিগ্রির রাশিতে প্রবেশ করার পর থেকে পরের রাশিতে প্রবেশ করা পর্যন্ত একটি সৌরমাস। সূর্য কোনো রাশির ১৫°-এ থাকলে পরের রাশিতে প্রবেশের আগে আরও ১৫° বাকি থাকে। এটি কৌণিক দূরত্ব, দিনের সংখ্যা নয়।
চান্দ্রমাস: ত্রিশটি তিথি
একটি চান্দ্রমাসে ৩০টি তিথি থাকে। প্রতিটি তিথি সূর্যের তুলনায় চন্দ্রের এগিয়ে থাকার ব্যবধানের ১২ ডিগ্রি বৃদ্ধি মাপে। এখানে মধ্যরাতের সীমানা নয়, অবস্থানের পরিবর্তন মাপা হচ্ছে। তাই ৩০টি তিথি মানে ৩০টি সাধারণ ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়।
চান্দ্রমাসের নাম চিনুন
কার্তিকের মতো নামের সঙ্গে নক্ষত্রের প্রথাগত সম্পর্ক রয়েছে। কার্তিক কৃত্তিকা নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত। শুধু মাসের নাম থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে চন্দ্র ঠিক কোন নক্ষত্রে থাকবে, তা জানা যায় না; তার জন্য পঞ্জিকার আলাদা নক্ষত্রের তথ্য দেখুন।
শিরোনামগুলি একসঙ্গে পড়ুন
মেষের সঙ্গে যুক্ত কোনো সৌরমাসের শিরোনামের সঙ্গে কার্তিকের মতো চান্দ্রমাসের শিরোনাম তুলনা করুন। প্রতিটি কী গুনছে, ভাবুন। তারপর নিচের সংখ্যাগুলি ক্যালেন্ডারের তারিখ নাকি তিথি, দেখুন এবং মাস কখন শুরু হয়, সেই পদ্ধতির উল্লেখ থাকলে পড়ুন।
25প্রথাগত দিন সূর্যোদয় থেকে কেন শুরু হতে পারেসূর্যোদয়ভিত্তিক বা সাবন দিন এক সূর্যোদয় থেকে পরের সূর্যোদয় পর্যন্ত চলে। পরিচিত ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলায় মধ্যরাতে।
শুরুর স্থান ঠিক করুন
এই প্রথাগত গণনায় সূর্যোদয়ে নতুন দিন শুরু হয় এবং পরের সূর্যোদয়ে সেই দিন শেষ হয়। এটি দিনের সীমানা ঠিক করার একটি পদ্ধতি। আপনার ফোন বা সাধারণ ক্যালেন্ডারে দেখানো তারিখ এতে বদলায় না।
মধ্যরাতের সঙ্গে তুলনা করুন
মধ্যরাত থেকে মধ্যরাতের তারিখ এবং সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয়ের সময়পর্ব আংশিক মেলে, পুরোপুরি নয়। মধ্যরাতের পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা আগের সকালবেলার সূর্যোদয়ে শুরু হওয়া সময়পর্বের মধ্যেই পড়তে পারে।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেখুন
ধরুন মঙ্গলবার সকাল ৬:০০টায় এবং বুধবার সকাল ৬:০০টায় সূর্যোদয় হচ্ছে। বুধবার রাত ৩:০০টায় সাধারণ ক্যালেন্ডারে বুধবার হয়ে গেছে, কিন্তু মঙ্গলবারের সূর্যোদয়ে শুরু হওয়া সময়পর্ব তখনও চলছে। বুধবার সকাল ঠিক ৬:০০টার সূর্যোদয়ে পরের পর্ব শুরু হবে। সময়গুলি উদাহরণমাত্র; বাস্তবে তারিখ ও স্থান অনুযায়ী সূর্যোদয় বদলায়।
পঞ্জিকার স্থান যাচাই করুন
কোনো তথ্যের অর্থ বোঝার আগে দেখুন, পঞ্জিকাটি দিন কীভাবে নির্ধারণ করেছে এবং সূর্যোদয়ের সময় কোন স্থানের জন্য দেওয়া। সময় অঞ্চলও যাচাই করুন। তথ্য তুলনা করার সময় ছাপানো সাধারণ তারিখ, সূর্যোদয়ের সীমানা এবং ঘটনার সময় আলাদা করে রাখুন।
26সংক্রান্তি বলতে কী বোঝায়সূর্য যে মুহূর্তে পরের রাশিতে প্রবেশ করে, সেটিই সংক্রান্তি। এই প্রথাগত গণনায় ওই সীমানা থেকে আরেকটি সৌরমাস শুরু হয়।
রাশিতে প্রবেশগুলি গুনুন
রাশিচক্রে ৩০° করে বারোটি রাশি আছে। পুরো একবার ঘুরতে সূর্য বারোবার নতুন রাশিতে প্রবেশ করে। কোনো প্রবেশ নির্ধারণের আগে দেখুন, পঞ্জিকাটি কোন রাশিচক্রের পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
একটি উদাহরণ হিসাব করুন
সূর্য মীনের ২৯°৫৯′-এ থাকলে মেষে পৌঁছাতে এক কৌণিক মিনিট বাকি। মেষের ০°-এ মেষ সংক্রান্তি শুরু হয়। মোট দ্রাঘিমা ৩৫৯°৫৯′ থেকে ৩৬০°-এ যায়, যা আবার ০° হয়। ঠিক সীমানাটি মেষের মধ্যে পড়ে। এখানে কৌণিক মিনিট কোণ মাপছে, ঘড়ির এক মিনিট নয়।
নিরয়ণ না সায়ন, যাচাই করুন
নিরয়ণ পঞ্চাঙ্গে নিরয়ণ রাশির সীমানা ব্যবহার করা হয়। ডিসেম্বরের অয়নান্ত সায়ন দ্রাঘিমার ২৭০°-এ নির্ধারিত। বর্তমানে এই দুই পদ্ধতির শুরুর স্থান আলাদা। তাই আধুনিক মকর সংক্রান্তি এবং ডিসেম্বরের অয়নান্তকে একই ক্যালেন্ডারের তারিখ ধরা যায় না।
প্রকাশিত সময় দেখুন
পরের রাশিতে প্রবেশের আগে কত কোণ বাকি, তা জানতে বর্তমান রাশিতে সূর্যের ডিগ্রি ৩০° থেকে বাদ দিন। ঘড়ির সময় জানতে সেই বছরের পঞ্জিকা দেখুন এবং সময় অঞ্চল ও রাশিচক্রের পদ্ধতি যাচাই করুন। প্রতি বছর একই তারিখ ধরে নেওয়ার বদলে প্রকাশিত প্রবেশের সময় ব্যবহার করুন।
27বৃহৎ জাতকে গ্রহের দৃষ্টি কীভাবে গোনা হয়টীকায় কোনো গ্রহের নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে মাপা কোণ দিয়ে দৃষ্টি বোঝানো হয়েছে। এই সংস্করণের শুরুর স্থান, সাধারণ দৃষ্টির ভগ্নাংশ এবং বিশেষ পূর্ণদৃষ্টি জানুন।
গ্রহের ডিগ্রি থেকে গুনুন
গ্রহের নির্দিষ্ট দ্রাঘিমাকে শুরুর বিন্দু A ধরুন। ওই বিন্দুটিকে প্রথম অবস্থান ধরে রাশিচক্রের ক্রমে ৩০° করে এগোন। তৃতীয় অবস্থান A থেকে ৬০° দূরে; সপ্তম অবস্থান A থেকে ১৮০° দূরে। এই গণনা গ্রহ থেকে শুরু হয়, লগ্ন থেকে নয়।
সাধারণ দৃষ্টির অবস্থান পড়ুন
শ্লোকটিতে সাতটি কৌণিক অবস্থানের জন্য দৃষ্টির ভগ্নাংশ দেওয়া আছে। এখানে ‘দৃষ্টি’ ওই কোণগুলির জন্য গ্রন্থে ব্যবহৃত শ্রেণিবিভাগ।
| গ্রহ থেকে অবস্থান | A থেকে কোণ | দৃষ্টির অংশ |
|---|---|---|
| তৃতীয় | 60° | ¼ |
| চতুর্থ | 90° | ¾ |
| পঞ্চম | 120° | ½ |
| সপ্তম | 180° | পূর্ণ |
| অষ্টম | 210° | ¾ |
| নবম | 240° | ½ |
| দশম | 270° | ¼ |
বিশেষ পূর্ণদৃষ্টি প্রয়োগ করুন
নিচের অবস্থানগুলিতে সাধারণ ভগ্নাংশের বদলে পূর্ণদৃষ্টি ধরা হয়। এই গ্রহগুলির প্রত্যেকটির সপ্তম দৃষ্টিও পূর্ণ থাকে।
| গ্রহ | গ্রহ থেকে অবস্থান | A থেকে কোণ |
|---|---|---|
| শনি | তৃতীয় ও দশম | 60° ও 270° |
| বৃহস্পতি | পঞ্চম ও নবম | 120° ও 240° |
| মঙ্গল | চতুর্থ ও অষ্টম | 90° ও 210° |
একটি উদাহরণ ও তার বিস্তার দেখুন
শনি মেষের ১০°-এ থাকলে পূর্ণদৃষ্টির কেন্দ্রগুলি হলো মিথুনের ১০°, তুলার ১০° এবং মকরের ১০°। টীকায় প্রতিটি কেন্দ্রের দুই দিকে ১৫° করে বিস্তার ধরা হয়েছে। তুলার ১০°-এর ক্ষেত্রে তা কন্যার ২৫° থেকে তুলার ২৫° পর্যন্ত। বিশেষ দৃষ্টির ক্ষেত্রেও টীকায় একই বিস্তার প্রযোজ্য বলা হয়েছে।
এটি এই সংস্করণের টীকায় বর্ণিত কৌণিক পদ্ধতি। ভগ্নাংশ ও বিস্তার জন্মকুণ্ডলীর প্রথাগত সংজ্ঞা, কোনো বাস্তব ভৌত প্রভাবের মাপ নয়।
28গ্রহের নৈসর্গিক সম্পর্ক: সঠিক দিক থেকে ছকটি পড়ুনবৃহৎ জাতকে সত্যাচার্যের নামে উল্লিখিত একটি নির্দিষ্ট ছক গ্রহণ করা হয়েছে। মিত্র, সম ও শত্রু হলো একটি গ্রহের তুলনায় অন্য গ্রহের শ্রেণিবিভাগ বোঝানোর পারিভাষিক নাম।
যে গ্রহকে ভিত্তি করছেন, তার সারি পড়ুন
প্রথম কলাম থেকে ভিত্তি-গ্রহটি বেছে নিন, তারপর সেই সারিতে দ্বিতীয় গ্রহটি খুঁজুন। প্রতিটি সারিতে অন্য ছয়টি গ্রহের নাম আছে; ভিত্তি-গ্রহটি নিজে বাদ থাকে।
| ভিত্তি-গ্রহ | মিত্র | সম | শত্রু |
|---|---|---|---|
| সূর্য | চন্দ্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি | বুধ | শুক্র, শনি |
| চন্দ্র | সূর্য, বুধ | মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি | কেউ নেই |
| মঙ্গল | সূর্য, চন্দ্র, বৃহস্পতি | শুক্র, শনি | বুধ |
| বুধ | সূর্য, শুক্র | মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি | চন্দ্র |
| বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল | শনি | বুধ, শুক্র |
| শুক্র | বুধ, শনি | মঙ্গল, বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র |
| শনি | শুক্র, বুধ | বৃহস্পতি | সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল |
উল্টো দিকটি আলাদা করে যাচাই করুন
চন্দ্রের সারিতে বুধ মিত্র। বুধের সারিতে চন্দ্র শত্রু। দুটি তথ্য আলাদা, কারণ প্রতিবার ভিত্তি-গ্রহ আলাদা। তাই ছকটি দুই দিক থেকে একই হবে ধরে নেবেন না।
এই ছককে গ্রহের অবস্থান থেকে আলাদা রাখুন
উল্লিখিত পদ্ধতিতে নৈসর্গিক সম্পর্কের এই ছক নির্দিষ্ট থাকে। সাময়িক সম্পর্ক আলাদা হিসাব; তা জন্মকুণ্ডলীতে গ্রহগুলির পরস্পরের তুলনায় অবস্থানের উপর নির্ভর করে।
১৫ নম্বর শ্লোকে আরেকটি তালিকা রয়েছে। এই লেখায় শুধু ১৬–১৭ নম্বর শ্লোকে লেখকের গৃহীত সত্যাচার্যের ছক ব্যবহার করা হয়েছে।
29গ্রহের সাময়িক মৈত্রী: ভিত্তি-গ্রহ থেকে গুনুনএকটি গ্রহের তুলনায় অন্যটি কোথায় রয়েছে, তার উপর সাময়িক সম্পর্ক নির্ভর করে। নৈসর্গিক ছকের বিপরীতে, আপেক্ষিক অবস্থান বদলালে এই শ্রেণিবিভাগও বদলাতে পারে।
শুরুর অবস্থান বেছে নিন
একটি গ্রহকে ভিত্তি হিসেবে বেছে নিয়ে তার অবস্থানকে প্রথম ধরুন। পরের অবস্থান দ্বিতীয়, এভাবে বারো পর্যন্ত গুনুন। সেই গ্রহ থেকে গুনবেন; স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ্ন থেকে নয়। নিচের উদাহরণে নম্বরযুক্ত অবস্থান ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট ভাব-গণনার পদ্ধতি ধরে নিতে না হয়।
ছয়টি মিত্র অবস্থান ব্যবহার করুন
শ্লোকের মূল নিয়ম অনুযায়ী, ভিত্তি-গ্রহ থেকে ২, ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর অবস্থানে থাকা অন্য গ্রহগুলি তার সাময়িক মিত্র। অন্য অবস্থানগুলিকে সাময়িক শত্রু বলা হয়।
নম্বর দিয়ে একটি উদাহরণ দেখুন
বৃহস্পতিকে ভিত্তি ধরুন। শুক্র বৃহস্পতি থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলে শুক্র বৃহস্পতির সাময়িক মিত্র। শনি সপ্তম অবস্থানে থাকলে শনি বৃহস্পতির সাময়িক শত্রু। দুটি ক্ষেত্রেই বৃহস্পতি থেকে শুরু করে আলাদা তুলনা করা হচ্ছে।
দুটি পরিচয় এক করে ফেলবেন না
নৈসর্গিক ছকে বৃহস্পতির সারিতে শুক্র শত্রু। দ্বিতীয় অবস্থানের উদাহরণে শুক্র সাময়িক মিত্র। দুটিই লেখা যায়: একটি এসেছে নির্দিষ্ট ছক থেকে, অন্যটি আপেক্ষিক অবস্থান থেকে।
১৮ নম্বর শ্লোকে কয়েকজন আচার্যের মতে উচ্চরাশি-ভিত্তিক মৈত্রীর আরেকটি নিয়মও রয়েছে। সেই অতিরিক্ত নিয়মটি এখানে বোঝানো ছয় অবস্থানের নিয়মের অংশ নয়।
30স্থানবল: পাঁচটি আলাদা পরিচয় বুঝুনএই অংশে পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে গ্রহের অবস্থান শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে; এটিই স্থানবল। স্বরাশি ও স্বনবাংশ তালিকার দুটি আলাদা বিষয়।
পাঁচটি শব্দ চিনে নিন
১৯ নম্বর শ্লোকে এই শর্তগুলির নাম রয়েছে, তবে কোনো সংখ্যাভিত্তিক নম্বর দেওয়া নেই।
| পরিভাষা | কী বোঝায় |
|---|---|
| উচ্চরাশি | গ্রহটির জন্য নির্ধারিত উচ্চরাশি। |
| মিত্ররাশি | ব্যবহৃত সম্পর্কের নিয়ম অনুযায়ী ওই গ্রহের মিত্র হিসেবে গণ্য রাশি। |
| মূলত্রিকোণ | গ্রন্থে আলাদা নামে উল্লিখিত রাশির একটি শ্রেণি। |
| স্বনবাংশ | গ্রহটির অধীন কোনো রাশির নামে নবাংশ। |
| স্বরাশি বা স্বক্ষেত্র | যে রাশির অধিপতি ওই গ্রহ। |
‘নিজের’ শব্দের দুটি ব্যবহার আলাদা করুন
স্বরাশি গ্রহটির মূল রাশিতে অবস্থান বোঝায়। স্বনবাংশ বোঝায় হিসাব থেকে পাওয়া নবাংশে অবস্থান। প্রথম অধ্যায়ের টীকায় একই নামের রাশি ও নবাংশের অধিপতি একই বলা হয়েছে। তাই সিংহ নামের নবাংশ সূর্যের। শুধু কোনো নবাংশে অবস্থান করলেই সেটি গ্রহটির স্বনবাংশ হয় না।
পরিচয়গুলি কীভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে, দেখুন
দ্বিতীয় অধ্যায়ের টীকায় মেষকে সূর্যের উচ্চরাশি এবং সিংহকে তার মূলত্রিকোণ বলা হয়েছে। সূর্যকে সিংহের অধিপতিও বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, গ্রন্থে একই রাশির জন্য দুটোই বলা হলেও মূলত্রিকোণ ও স্বরাশি আলাদা পরিচয়।
প্রতিটি পরিচয়ের ভিত্তি লিখে রাখুন
জন্মকুণ্ডলীর কোনো তথ্যের জন্য রাশি, তার অধিপতি এবং নবাংশ আলাদা করে লিখুন। অতিরিক্ত কোনো পরিচয় কোন সূত্র বা সম্পর্কের নিয়ম থেকে এসেছে, তা চিহ্নিত করুন। আপেক্ষিক মানের জন্য টীকায় অন্য অংশের উল্লেখ আছে; শুধু পাঁচটি নাম দেখে নম্বর যোগ করা বা শর্তগুলির ক্রম নির্ধারণ করা যায় না।
এই লেখায় উল্লিখিত অংশগুলির শ্রেণিবিভাগ বোঝানো হয়েছে। এখানে গ্রহের সম্পূর্ণ শক্তির নম্বর গণনা করা হয় না।
31দিগ্বল: অবস্থান ও গ্রন্থের বিকল্প ব্যাখ্যাদিগ্বলের ক্ষেত্রে এই অংশে চার দিকের সঙ্গে জন্মকুণ্ডলীর চারটি অবস্থান যুক্ত করা হয়েছে। পরে নির্দিষ্ট রাশিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে আরেকটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানভিত্তিক মূল ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু করুন
গ্রন্থে উল্লিখিত জন্মকুণ্ডলীর অবস্থানগুলি ব্যবহার করুন। দিকের নামগুলি এই জন্মকুণ্ডলী-প্রথার অংশ।
| দিক | জন্মকুণ্ডলীর অবস্থান | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|---|
| পূর্ব | উদিত অবস্থান | বুধ, বৃহস্পতি |
| দক্ষিণ | দশম অবস্থান | সূর্য, মঙ্গল |
| পশ্চিম | অস্ত অবস্থান | শনি |
| উত্তর | চতুর্থ অবস্থান | চন্দ্র, শুক্র |
সহজভাবে মিলিয়ে দেখুন
বৃহস্পতি উদিত অবস্থানে থাকলে তা ছকে বৃহস্পতির তথ্যের সঙ্গে মেলে। শনি অস্ত অবস্থানে থাকলে তা শনির তথ্যের সঙ্গে মেলে। শুধু গ্রহের রাশি জানলেই বোঝা যায় না যে এটি ওই অবস্থানগুলির একটিতে রয়েছে। জন্মকুণ্ডলীতে আগে থেকে চিহ্নিত অবস্থানগুলি ব্যবহার করুন।
টীকার বিকল্প ব্যাখ্যাটি চিনে রাখুন
টীকা (f)-এ বলা হয়েছে, কয়েকজন ভাষ্যকার নির্দিষ্ট ত্রিকোণ রাশিগোষ্ঠী ব্যবহার করেন। এই ব্যাখ্যাকে উপরের অবস্থানভিত্তিক ছক থেকে আলাদা রাখুন।
| দিক | গোষ্ঠীর রাশি | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|---|
| পূর্ব | মেষ, সিংহ, ধনু | বুধ, বৃহস্পতি |
| দক্ষিণ | বৃষ, কন্যা, মকর | সূর্য, মঙ্গল |
| পশ্চিম | মিথুন, তুলা, কুম্ভ | শনি |
| উত্তর | কর্কট, বৃশ্চিক, মীন | চন্দ্র, শুক্র |
ব্যবহারের আগে ব্যাখ্যাটি নির্দিষ্ট করুন
মূল ব্যাখ্যায় জন্মকুণ্ডলীর অবস্থান দেখা হয়; বিকল্প ব্যাখ্যায় নির্দিষ্ট রাশিগোষ্ঠীতে পড়ছে কি না, দেখা হয়। দুটিকে মিশিয়ে ফেললে প্রয়োগ করা নিয়মটিই বদলে যাবে।
এই অংশে শ্রেণিবিভাগগুলি দেওয়া হয়েছে, কোনো ভাব-গণনার পদ্ধতি বা সংখ্যাভিত্তিক দিগ্বলের নম্বর নয়।
32কালবল: দিন, রাত ও চন্দ্রকলার শ্রেণিবিভাগএই প্রথায় সময়-সম্পর্কিত শর্তগুলির শ্রেণিবিভাগ হলো কালবল। ২১ নম্বর শ্লোকে দিন ও রাত আলাদা করা হয়েছে এবং চন্দ্রের বৃদ্ধি ও ক্ষয়ের পক্ষের কথাও আলাদাভাবে বলা হয়েছে।
দিন-রাতের শ্রেণিবিভাগ পড়ুন
শ্লোক এবং টীকা (a)-এ সাতটি গ্রহকে এই গোষ্ঠীগুলিতে রাখা হয়েছে।
| সময়ের বিভাগ | উল্লিখিত গ্রহ |
|---|---|
| রাত | চন্দ্র, মঙ্গল, শনি |
| দিন | সূর্য, বৃহস্পতি, শুক্র |
| দিন ও রাত উভয়ই | বুধ |
স্থানীয় রাত নিশ্চিত এমন জন্মের উদাহরণ নিন
ধরুন, জন্মটি স্থানীয় সূর্যাস্তের পরে এবং পরের সূর্যোদয়ের আগে হয়েছে বলে নিশ্চিত জানা আছে। নিয়মের দিন-রাত অংশে তখন রাতের গোষ্ঠী এবং উভয় সময়ে প্রযোজ্য বুধের তথ্যটি দেখবেন। শুধু এই মিল থেকেই গ্রহের শক্তির সব দিক নির্ধারিত হয় না।
চন্দ্রপক্ষের কথাটি আলাদা করে পড়ুন
একই শ্লোকে ক্ষয়মান চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষকে পাপগ্রহ শ্রেণির সঙ্গে এবং বৃদ্ধিমান চন্দ্রের শুক্লপক্ষকে শুভগ্রহ শ্রেণির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এগুলি প্রথাগত শ্রেণির নাম। এটি চন্দ্রপক্ষভিত্তিক একটি আলাদা শর্ত, দিন-রাতের ছকের বিকল্প নয়।
এই ছোট অংশে কী ব্যাখ্যা করা হয়নি, খেয়াল করুন
এখানে গ্রহের নিজের বছর, মাস, দিন ও ঘণ্টার কথাও আছে, কিন্তু সেগুলির গণনা ব্যাখ্যা করা হয়নি। জানা স্থানীয় সময়ের বিভাগ ও চন্দ্রপক্ষ লিখে রাখতে পারেন। তবে শুধু এই তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ কালবলের নম্বর পাওয়া যায় না।
33কর্ম ও ফল নিয়ে গীতা পড়ামন দিয়ে চেষ্টা করার সঙ্গে ফলের প্রতি আসক্তি কমানোর সম্পর্ক গীতা কীভাবে দেখায় এবং দৈনন্দিন কাজ কীভাবে ভক্তির প্রকাশ হতে পারে, জানুন।
দুটি ভাব একসঙ্গে পড়ুন
দ্বিতীয় অধ্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে পুরস্কার বা ফলকে উদ্দেশ্য না করে কাজ করতে বলেন। একই সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতেও বলেন। থেমে ভাবার আগে অংশটির দুটো দিকই পড়ুন।
চেষ্টাকে ভক্তির প্রকাশ হতে দিন
আর্নল্ড এই আহ্বানকে “And live in action! Labour!” বলে অনুবাদ করেছেন—অর্থাৎ কর্মের মধ্যে বাঁচো, কাজ করো। পরের লাইনগুলি কাজের সঙ্গে ধর্মনিষ্ঠা ও স্থিরতার সম্পর্ক দেখায়। কাজের প্রতি যত্ন এখানেও জরুরি।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
চাকরির আবেদনের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলে, আবেদন তৈরিতে নিজের যত্ন ও চেষ্টাকে অপেক্ষায় থাকা সিদ্ধান্তটির থেকে আলাদা করে ভাবতে পারেন। তারপর আজ করতে পারবেন এমন একটি উপকারী পদক্ষেপ বেছে নিন।
একটি প্রশ্ন সঙ্গে রাখুন
ফল অনিশ্চিত থাকলেও আজ কোন বিষয়টি আমার যত্ন পাওয়ার যোগ্য? প্রশ্নটি মনে রাখতে পারেন বা ছোট করে উত্তর লিখতে পারেন।
যে দিনগুলিতে চেষ্টা ও অনিশ্চয়তা পাশাপাশি থাকে, এই অংশটিতে ফিরে আসতে পারেন।
34শান্তভাবে পড়ার সময় মন অন্যদিকে চলে গেলেমন অন্যদিকে গেলেই পড়া থামাতে হবে না। মনোযোগ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গীতার আহ্বান এবং জীবের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতির শিক্ষা নিয়ে ভাবুন।
ছোট একটি অংশ দিয়ে শুরু করুন
ষষ্ঠ অধ্যায়ে “But, as often” দিয়ে শুরু হওয়া লাইনগুলি পড়ুন। কৃষ্ণ মন তার লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া এবং আত্মার পথনির্দেশে তাকে আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলেন।
ফিরে আসার আহ্বানটি লক্ষ করুন
আর্নল্ড “as often”-এর সঙ্গে “so oft” ব্যবহার করেছেন—যতবার মন সরে যায়, ততবার ফিরিয়ে আনতে হবে। শুরু থেকেই মনোযোগ স্থির থাকবে আশা না করে, বারবার ফিরে আসার বিষয়টি লক্ষ করতে পারেন।
নিজের পড়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন
সহজ একটি উদাহরণ ভাবুন: পড়ার সময় বাড়ির কোনো কাজের কথা মনে পড়ে মন সরে গেল। একটু থামতে পারেন, লাইনটি আবার খুঁজে নিতে পারেন, তারপর প্রস্তুত হলে পড়া চালিয়ে যেতে পারেন।
আধ্যাত্মিক অর্থটিও মনে রাখুন
পরের লাইনগুলিতে সব জীবের মধ্যে আত্মাকে এবং আত্মার মধ্যে সব জীবকে দেখার কথা আছে। কৃষ্ণ অন্তর্মুখী হয়ে ফিরে আসার সঙ্গে সমগ্র জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি চিনতে পারার সম্পর্ক দেখান।
নিজের গতিতে পড়ুন। প্রয়োজনে থেমে পরে আবার এই অংশে ফিরতে পারেন।
35একটি পাতা, ফুল, ফল বা জলগীতার একটি পরিচিত অংশ কীভাবে সাধারণ নিবেদনের কেন্দ্রে ভালোবাসা ও ভক্তিকে রাখে এবং সেই ভাবকে দৈনন্দিন জীবনে নিয়ে আসে, জানুন।
সাধারণ উপহারগুলি দিয়ে শুরু করুন
নবম অধ্যায়ে কৃষ্ণ পাতা, ফুল, ফল ও জলের কথা বলেন। কিছু নিবেদন করার অর্থ কী, তা ভাবার সহজ সূচনা হতে পারে এই সাধারণ উপহারগুলি।
উপহারের পিছনের অনুভূতি দেখুন
আর্নল্ডের অনুবাদে “faith and love”—বিশ্বাস ও ভালোবাসা—এবং দাতার ভক্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পড়ার সময় লক্ষ করুন, কতটা যত্ন নিয়ে উপহারটি নিবেদন করা হচ্ছে।
ভক্তিকে দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করুন
পরের লাইনগুলিতে খাওয়া, দান করা ও প্রার্থনাকে কৃষ্ণের প্রতি নিবেদনের ভাব নিয়ে করার কথা আছে। এই অংশ নিবেদনের মনোভাবকে প্রতিদিনের কাজে প্রসারিত করে।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
বাড়িতে কাউকে এক গ্লাস জল দেওয়ার সময় একটু থেমে সেই সাধারণ কাজের যত্নটুকু লক্ষ করতে পারেন। নিবেদনকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অনুভূতি কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
এই অংশের সাধারণ উপহারগুলি আন্তরিকতা নিয়ে ভাবার অনেক সুযোগ দেয়।
36ঈশোপনিষদের প্রথম দুটি মন্ত্রদৈনন্দিন জীবনে ঈশ্বরের উপস্থিতি দেখা, ঈর্ষা কমানো এবং যত্ন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান হিসেবে ঈশোপনিষদের শুরুর মন্ত্রগুলি পড়ুন।
শুরুর দুটি মন্ত্র পড়ুন
প্রথম মন্ত্রে জগৎকে ঈশ্বরের উপস্থিতিতে দেখা হয়েছে এবং অন্যের সম্পদে লোভ না করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় মন্ত্রে সৎকর্মের জীবনযাপনের দিকে মন দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরের উপস্থিতি নিয়ে একটু ভাবুন
পরমানন্দ “covered by the Lord” কথাটির ব্যাখ্যা করেছেন সর্বত্র ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করা হিসেবে। শুরুর মন্ত্র সম্পর্কে এটি তাঁর ভাষ্য, যা পাঠককে অর্থটি নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে।
একটি সম্পূর্ণ জীবন নিয়ে ভাবুন
দ্বিতীয় মন্ত্রে একশো বছর বাঁচতে চান এমন মানুষের কথা রয়েছে। মূল বিষয় হলো জীবনটি কীভাবে কাটানো হবে—সৎকর্মের মাধ্যমে। দীর্ঘ জীবনকে সেই প্রশ্নের প্রেক্ষাপট হিসেবে পড়ুন।
নিজের জীবনের কাছে নিয়ে আসুন
কারও নতুন কিছু কেনা দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করলে জিজ্ঞেস করতে পারেন: আজ কোন সম্পর্ক বা দায়িত্বে যত্ন দিতে চাই? প্রথম দুটি মন্ত্র নিয়ে ভাবার এটি একটি উপায়।
দুটি মন্ত্র একসঙ্গে পড়ুন, যাতে নিজের ভিতরের উপলব্ধি এবং দৈনন্দিন দায়িত্ব—দুটিরই জায়গা থাকে।
37কঠোপনিষদে ওঁ কী বোঝায়যম ও নচিকেতার আলোচনায় ওঁ-কে জানুন। এই পবিত্র ধ্বনি ব্রহ্মের দিকে নির্দেশ করে এবং সাধকের চিন্তার একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
যমের উত্তর দিয়ে শুরু করুন
দ্বিতীয় অংশের XV-XVII অনুচ্ছেদে যম বেদে প্রশংসিত আধ্যাত্মিক লক্ষ্যকে Aum বলেছেন; এখানে ওঁ-এর জন্য এই বানানটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরের মন্ত্রগুলিতে একে ব্রহ্ম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয় বলা হয়েছে।
এখানে ব্রহ্মের অর্থ বুঝুন
পরমানন্দ ব্রহ্ম বলতে সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক সত্তা বা পরম সত্য বুঝিয়েছেন। এই অর্থ মনে রেখে মন্ত্রগুলি পড়ুন: পবিত্র ধ্বনিটি সাধক যা জানতে চান, সেই দিকেই নির্দেশ করে।
পরিতৃপ্তির কথা প্রেক্ষাপটে বুঝুন
মন্ত্রগুলিতে আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা আছে। পরমানন্দের ভাষ্য অনুযায়ী এর অর্থ ঈশ্বরের মধ্যে পূর্ণতা খুঁজে পাওয়া। এখানে মূল বিষয় আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, কোনো নির্দিষ্ট ইচ্ছা পূরণের কৌশল নয়।
এভাবে ভেবে দেখতে পারেন
এমন একটি শব্দের কথা ভাবুন, যা শুনলে প্রিয় কারও কথা মনে পড়ে। তারপর ভাবতে পারেন, পবিত্র কোনো শব্দ কীভাবে ভক্তকে ঈশ্বরের দিকে মন ফেরাতে সাহায্য করে। পড়ার সময় এই তুলনাটি নিয়ে ভাবতে পারেন।
এখানে ওঁ এসেছে আত্মা ও সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক সত্য নিয়ে আলোচনার মধ্যে।
38কঠোপনিষদে রথের উপমাকঠোপনিষদের রথের উপমা জানুন: শরীর হলো বাহন, মন লাগাম, আর বিবেকবুদ্ধি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পথে যাত্রাকে দিশা দেয়।
উপমার অংশগুলির সঙ্গে পরিচয়
III-IV অনুচ্ছেদে প্রতিটি অংশকে আলাদা ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাখলে কথাগুলি বুঝতে সুবিধা হয়।
| উপমার অংশ | এই অংশে তার অর্থ |
|---|---|
| রথের অধিপতি | আত্মা |
| রথ | শরীর |
| সারথি | বুদ্ধি বা বিবেক |
| লাগাম | মন |
| ঘোড়া | ইন্দ্রিয় |
| পথ | ইন্দ্রিয়ের বিষয়বস্তু |
যাত্রাকে কী দিশা দেয়, লক্ষ করুন
V-VI অনুচ্ছেদে বেয়াড়া ঘোড়ার সঙ্গে সারথির কথা মেনে চলা ঘোড়ার তুলনা করা হয়েছে। বিচারবুদ্ধি ও স্থির মনের সঙ্গে ইন্দ্রিয়কে পথ দেখানোর ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝানো হয়েছে।
সাধারণ মুহূর্তে উপমাটি ব্যবহার করুন
হাঁটার সময় দোকানের উজ্জ্বল সাজানো জানালা চোখে পড়ল। এই উপমা দিয়ে আকর্ষণটি লক্ষ করতে, একটু থামতে এবং কোথায় যাবেন ঠিক করতে পারেন। ইন্দ্রিয়ের টান ও বিচারবুদ্ধির পথনির্দেশ—দুটির ভূমিকা আলাদা।
গন্তব্য পর্যন্ত পড়ুন
IX অনুচ্ছেদে গন্তব্যকে বিষ্ণুর পরম পদ বলা হয়েছে। পরমানন্দ এখানে বিষ্ণুকে সর্বব্যাপী, অপরিবর্তনীয় এক সত্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। যাত্রাটি দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত ছাড়িয়ে আধ্যাত্মিক মুক্তি সম্পর্কে গ্রন্থের শিক্ষার দিকে নিয়ে যায়।
সারথি হলো বুদ্ধি, আর মন হলো লাগাম। এই পার্থক্য মনে রাখলে পুরো উপমাটি স্পষ্ট থাকে।
39চাঁদের আকার বদলায় কেনচাঁদের আলোর পরিবর্তন, মাসিক চক্র এবং তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, বুঝে নিন।
সূর্যের আলো দিয়ে শুরু করুন
চাঁদের নিজের আলো নেই। তার পৃষ্ঠ থেকে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে চাঁদের আলো হিসেবে দেখা যায়। সাধারণভাবে যেকোনো মুহূর্তে সূর্য চাঁদের এক অর্ধাংশ আলোকিত করে।
দেখার কোণ কীভাবে বদলায়, লক্ষ করুন
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরার সময় তার আলোকিত অর্ধাংশের বিভিন্ন অংশ আমাদের চোখে পড়ে। অমাবস্যার কাছাকাছি আলোকিত দিকটি বেশির ভাগটাই আমাদের বিপরীত দিকে থাকে। প্রথম বা শেষ পাদের চাঁদে দৃশ্যমান অংশের প্রায় অর্ধেক আলোকিত দেখা যায়। পূর্ণিমার কাছাকাছি প্রায় পুরো দৃশ্যমান অংশই আলোকিত হয়।
চক্রের দৈর্ঘ্য গুনুন
এক অমাবস্যা থেকে পরের অমাবস্যা হতে গড়ে প্রায় ২৯.৫ দিন লাগে। তাই এই চক্র ঠিক ৩০ দিনের হিসাব নয়।
নিজে এঁকে দেখুন
কয়েক দিন ব্যবধানে তিনটি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে তার আকার এঁকে রাখুন এবং তারিখ ও সময় লিখুন। দৃশ্যমান অংশের কতটা আলোকিত দেখাচ্ছে, তুলনা করুন। চান্দ্রপঞ্জিকা পড়ার পাশাপাশি এটি সহজ একটি পর্যবেক্ষণের অনুশীলন।
শুধু চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে অন্ধকার করে। সাধারণ মাসিক চন্দ্রকলার তুলনায় সেটি সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের ভিন্ন বিন্যাস।
40বক্রী গ্রহ কি নিজের কক্ষপথে উল্টো চলেনা। পৃথিবী ও গ্রহটির পরস্পরের তুলনায় গতির কারণে দূরের তারাদের পটভূমিতে গ্রহটিকে পশ্চিম দিকে সরতে দেখা যায়; এটাই আপাত বক্রগতি।
বক্রগতি কী বোঝায়
বক্রগতি এমন একটি সময়কে বোঝায়, যখন কোনো গ্রহকে পটভূমির তারাদের তুলনায় তার স্বাভাবিক গতির উল্টো দিকে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে যেতে দেখা যায়। গ্রহটি নিজের কক্ষপথে সামনের দিকেই চলতে থাকে।
মঙ্গলের উদাহরণ
পৃথিবী ও মঙ্গল দুটিই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী মঙ্গলের কাছে এসে তাকে পেরিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের দেখার দিক বদলায়। ফলে দূরের তারাদের তুলনায় মঙ্গলকে পিছিয়ে যেতে মনে হয়—যেমন ধীরগতির গাড়িকে পেরিয়ে গেলে সেটিকে পিছনে সরতে মনে হয়।
সংখ্যাগুলি পড়ুন
সহজ উদাহরণ হিসেবে ধরুন, একটি তারিখে গ্রহের ক্রান্তিবৃত্তীয় দ্রাঘিমা ১২০.৫° এবং পরের তারিখে ১২০.৩°। এই কমে যাওয়া আপাত বক্রগতি বোঝায়। সংখ্যাগুলি উদাহরণমাত্র। বাস্তব ছক তুলনা করার সময় ৩৬০°–০° সীমানাও খেয়াল করুন: ৩৫৯.৯° থেকে ০.১°-এ যাওয়া মানে শূন্য পেরিয়ে সামনের দিকে চলা, অনেকটা পিছনে লাফ দেওয়া নয়।
বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আলাদা রাখুন
খগোলবিদ্যা জানায় আকাশে কোনো গ্রহ কোথায় দেখা যায়। বক্রী সময়ের জ্যোতিষীয় অর্থ আলাদা ব্যাখ্যার বিষয়। Astro Aunty-র কুণ্ডলীতে জন্মের সময় গ্রহের গতি চিহ্নিত থাকে; এখানে সম্পূর্ণ বক্রী সময়পর্বের ক্যালেন্ডার দেওয়া হয় না।