পঞ্চাঙ্গের একটি পঙ্ক্তি পড়ুন
আজ আপনি শিখবেনবার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ চিনুন এবং তিথির সময়পর্বকে সাধারণ ক্যালেন্ডারের তারিখ থেকে আলাদা করুন।
বার · তিথি · নক্ষত্র · যোগ · করণ
এক পঙ্ক্তিতে পাঁচটি পরিচয়
পঞ্চাঙ্গ একটি ঐতিহ্যগত পঞ্জিকা; তার নামটি পাঁচটি অংশের কথা বলে। একটি পঙ্ক্তিতে সাধারণত বার (সপ্তাহের দিন), তিথি (চান্দ্রদিন), চন্দ্রের নক্ষত্র (7 নম্বর দিনের পাঠের 27টি বিভাগের একটি), যোগ ও করণ থাকে। পঞ্জিকার নির্দিষ্ট সময়ে কোন সময়পর্বগুলি চলছে, পঙ্ক্তিটি সেগুলির নাম জানায়।
পঞ্চাঙ্গে সূর্য ও চন্দ্রের দ্রাঘিমার যোগফল থেকে যোগ গণনা করা হয়। কুণ্ডলীর যোগ বলতে গ্রহস্থিতির সমন্বয় বোঝায়; এখানে শব্দটির ব্যবহার তার থেকে আলাদা। এখানে আপনি পঞ্জিকার একটি পরিভাষা পড়ছেন, শরীরচর্চার যোগব্যায়ামের নির্দেশ নয়।
তিথি ও করণ
তিথি নির্ভর করে চন্দ্র ও সূর্যের দ্রাঘিমার ব্যবধানের ওপর। একই মুহূর্ত ও একই রাশিচক্রের সেটিংসের দ্রাঘিমা নিয়ে চন্দ্রের দ্রাঘিমা থেকে সূর্যের দ্রাঘিমা বিয়োগ করুন। ফল ঋণাত্মক হলে 360° যোগ করুন, যাতে ব্যবধান 0° থেকে 360°-এর কমের মধ্যে থাকে। প্রতিটি তিথির বিস্তার 12°, তাই পুরো চক্রে 30টি তিথি থাকে। তিথি 1 হলো 0° থেকে 12°-এর কম পর্যন্ত, আর তিথি 2 হলো 12° থেকে 24°-এর কম পর্যন্ত।
করণ হলো অর্ধেক তিথি, তাই একই ব্যবধানের 6° জুড়ে একটি করণ থাকে। মধ্যরাতে এই ব্যবধান নতুন করে শূন্য হয় না; ফলে তিথি যেকোনো সময় শুরু বা শেষ হতে পারে। এ কারণেই তিথি সাধারণ ক্যালেন্ডারের তারিখ নয় এবং একটি তারিখে দুটি তিথির অংশ থাকতে পারে।
- পুরো চক্রে 1-30 গণনার জন্য: তিথির নম্বর = সম্পূর্ণ হওয়া 12° ধাপের সংখ্যা + 1
- করণ = 6°, অর্থাৎ অর্ধেক তিথি
পঙ্ক্তির আগে সংকেতের ব্যাখ্যা পড়ুন
পঞ্চাঙ্গ একটি নির্দিষ্ট স্থান ও সময় অঞ্চলের জন্য তৈরি হয় এবং তার সময়গুলি সেই অঞ্চলের ঘড়ির সময়ে দেওয়া থাকে। কোনো পঙ্ক্তি ব্যবহার করার আগে শুরুর তথ্য থেকে স্থান ও সময় অঞ্চল যাচাই করুন, যেমন IST (ভারতীয় প্রমাণ সময়)।
তারপর তালিকাভুক্ত সময়ের অর্থ বোঝানো সংকেতের ব্যাখ্যা পড়ুন। রাষ্ট্রীয় পঞ্চাঙ্গের ব্যাখ্যায় দেওয়া সময়গুলিকে সমাপ্তির মুহূর্ত বলা হয়েছে। তাই ‘তিথি 3 শেষ 14:20 IST’ বলে তিথি 3 কখন শেষ হয়, কখন শুরু হয় তা নয়। আগের তিথি শেষ হওয়ার সময়েই এটি শুরু হয়েছিল।
উদাহরণসহ ব্যাখ্যা
কাল্পনিক সমাধানসহ উদাহরণ: চন্দ্র 200°, সূর্য 150°
অনুশীলনের জন্য এই দ্রাঘিমাগুলি কল্পনা করা হয়েছে। এগুলি কোনো গ্রহস্থিতির সারণি বা বাস্তব তারিখ থেকে নেওয়া নয়।
- ব্যবধান: 200° − 150° = 50°।
- সম্পূর্ণ হওয়া 12° ধাপ: চারটি (48°), বাকি 2°।
- চারটি ধাপ সম্পূর্ণ হলে ব্যবধান তিথি 5-এ পড়ে, যার বিস্তার 48° থেকে 60°-এর কম পর্যন্ত।
- করণ: তিথি 5-এর প্রথম অর্ধেক 48° থেকে 54°-এর কম পর্যন্ত, তাই 50° তার প্রথম করণে পড়ে।
এবার আপনার পালা
নিজে করে দেখুন
একই মুহূর্তের কাল্পনিক দ্রাঘিমা চন্দ্র 68° এবং সূর্য 42°। ব্যবধান ও চলতি তিথির নম্বর নির্ণয় করুন। নমুনা পঙ্ক্তিতে ‘শেষ 14:20 IST’ লেখা থাকলে সেটি কি শুরুর সময়?
উত্তর দেখুন
ব্যবধান 68° − 42° = 26°। সম্পূর্ণ হওয়া দুটি 12° ধাপ মিলে 24°, তাই ব্যবধান তিথি 3-এ পড়ে। তার বিস্তার 24° থেকে 36°-এর কম পর্যন্ত। তালিকাভুক্ত সময়টি তিথির শেষ, শুরু নয়। এটি শেখানোর উদাহরণ, আজকের পঞ্চাঙ্গ নয়।
একটি ছোট প্রশ্ন
একটি নমুনা পঙ্ক্তিতে লেখা আছে ‘তিথি 7 শেষ 09:10 IST’। 09:10 কোন সময় বোঝায়?
ব্যাখ্যা দেখুন
পঙ্ক্তির সংকেতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সময়গুলি সমাপ্তির মুহূর্ত, আর IST সময় অঞ্চলের নাম। তাই 09:10 হলো তিথি 7-এর শেষ। এটি শুরুর সময় নয় এবং অন্য স্থানগুলির সূর্যোদয়ের সময়ও নয়।
এই তিনটি কথা মনে রাখুন
- পাঁচটি পরিচয় হলো বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ।
- চন্দ্র–সূর্যের ব্যবধানের 12° জুড়ে একটি তিথি এবং 6° জুড়ে একটি করণ থাকে।
- স্থান, সময় অঞ্চল এবং দেওয়া সময়গুলি সমাপ্তির সময় কি না যাচাই করুন।